ভোটের মুখে আলিমুদ্দিনে মহাধস! প্রতীক উরের বিদায়ে সেলিমের ‘তাজ্জব’ উত্তর, কী লুকিয়ে রাখছে সিপিএম?

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালাচ্ছে সিপিআইএম, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা খেল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সোমবার আচমকাই দলের রাজ্য কমিটি এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তরুণ তুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমান। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াকু মুখ হিসেবে যাকে তুলে ধরা হয়েছিল, তাঁর এই আকস্মিক দলত্যাগে কার্যত অস্বস্তিতে লাল শিবির।

সেলিমের রহস্যময় নীরবতা প্রতীক উরের ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। কিছুটা এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে সেলিম বলেন, “এটি পার্টির অভ্যন্তরীণ এবং সাংগঠনিক ব্যাপার। সাংগঠনিক বিষয় সোশ্যাল মিডিয়া বা মিডিয়ায় আলোচনা হয় না। রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই নিয়ে কথা হবে।” তবে সেলিমের এই নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়ার আড়ালে বড় কোনো ক্ষোভ লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়: সরব ঊষসী থেকে সৌরভ প্রতীক উরের দল ছাড়া নিয়ে বামপন্থী বৃত্তে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী ফেসবুকে মাও সেতুং এবং নেপাল দেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “ব বীরের সদগতি থেকে ভ্রষ্ট নাহি হই… আমাদের মতো কিছু বোকা লোকের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়ে মেরুদণ্ড সোজা রাখাটা অনেক বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।” অন্যদিকে, পরিচালক সৌরভ পালোধি স্রেফ কয়েক শব্দে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতীকের গুরুত্ব। তিনি লিখেছেন, “প্রতীক উর রহমান প্রয়োজনীয়। ব্যাস আর কিছু আপাতত লিখব না।” অভিনেতা দেবদূত ঘোষও জানিয়েছেন, প্রতীক উর লড়াকু নেতা, তাঁর দল ছাড়া টাকার জন্য নয় বরং নৈতিক কোনো কারণে হতে পারে।

কেন এই বিদ্রোহ? সূত্রের খবর, সাম্প্রতিককালে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বৈঠক এবং সেই সংক্রান্ত রণকৌশল মেনে নিতে পারেননি প্রতীক। শতরূপ ঘোষ যখন সেলিমের পাশে দাঁড়িয়ে ‘নীতি-নৈতিকতা’র চেয়ে জয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন, তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করে প্রতীক লিখেছিলেন, “নীতি-নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।” এই আদর্শগত সংঘাতই কি ইস্তফার মূল কারণ? প্রতীক উর নিজে এখনও সরাসরি মুখ না খুললেও, ভোটের মুখে এই তরুণ নেতার চলে যাওয়া সিপিএমের জন্য বড় ‘ড্যামেজ’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।