সরাসরি যোগীর দরবারে জনতা! লখনউতে সমস্যার পাহাড়, আধিকারিকদের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে আবারও লখনউতে ‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচির আয়োজন করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার সকালে লখনউয়ের সরকারি বাসভবনে কয়েকশো আবেদনকারীর মুখোমুখি হন তিনি। প্রত্যেকের সমস্যা ধৈর্য ধরে শোনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত ও সময়মতো সমাধানের কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগী স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কোনো স্তরেই গাফিলতি সহ্য করবে না তাঁর সরকার।

আগে জেলা, পরে লখনউ: মুখ্যমন্ত্রী বার্তা এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে একটি বিশেষ অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, রাজধানীতে আসার আগে সাধারণ মানুষ যেন প্রথমে নিজ নিজ জেলা ও বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যদি সেখানে সুরাহা না হয়, তবেই যেন তাঁরা লখনউতে আসেন। যোগীর কথায়, “প্রত্যেক আধিকারিক জনগণের সেবার জন্য দায়বদ্ধ। ভুক্তভোগীদের সমস্যা সমাধান করাই আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

শিল্পোদ্যোগীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ জনতা দর্শনে কয়েকজন শিল্পপতি তাঁদের সমস্যার কথা জানালে যোগী আদিত্যনাথ অবিলম্বে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (UPSIDA) এবং জেলা প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে বলেন। তিনি সাফ জানান, রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের স্বচ্ছতা বজায় রেখে শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যার সমাধান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষায় বড় বদল ও শিশুদের সঙ্গে খুনসুটি এদিন এক নাগরিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা বা পিটি ক্লাস বাধ্যতামূলক করার দাবি জানালে মুখ্যমন্ত্রী সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন শিশুদের শারীরিক বিকাশে খেলাধুলা যুক্ত করার পরিকল্পনা নিতে। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছে শিশুদের সঙ্গে যোগীর মেলামেশা। অনুষ্ঠানে আসা শিশুদের পড়াশোনার খোঁজ নেন তিনি। তাদের হাতে চকোলেট তুলে দিয়ে যোগী বলেন, “মন দিয়ে পড়াশোনা করো, আর সময় পেলে প্রাণ খুলে খেলাধুলাও করো।” এদিনের কর্মসূচি থেকে অবৈধ দখলদারি এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।