রেশন দোকানে এবার এটিএম! টাকা নয়, বেরোবে চাল-ডাল-চিনি; ঐতিহাসিক উদ্বোধন অমিত শাহের

রেশন ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এবার অতীত হতে চলেছে। সাধারণ মানুষের পাতে সঠিক মাপে ও স্বচ্ছ উপায়ে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। রবিবার গুজরাটের গান্ধীনগরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি’ (CBDC) ভিত্তিক পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) এবং ‘অন্নপূর্তি’ নামক শস্য এটিএম-এর উদ্বোধন করেছেন। এই নয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন ডিজিটাল রুপি এবং বায়োমেট্রিক পরিচয়ের মাধ্যমেই মিলবে রেশন।

কী এই ‘অন্নপূর্তি’ গ্রেন এটিএম? টাকা তোলার এটিএম-এর মতোই এবার তৈরি হয়েছে শস্য দেওয়ার মেশিন। গুজরাটে তৈরি এই ‘অন্নপূর্তি’ মেশিনটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নির্দিষ্ট পরিমাণে গম এবং চালের পাশাপাশি ১ কেজি অড়হর ডাল, ১ কেজি ছোলা, লবণ এবং চিনিও পাবেন। ফলে ওজনে কারচুপি বা রেশন ডিলারের পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ থাকবে না।

ডিজিটাল রুপির জাদু ও স্বচ্ছতা নতুন এই মডেলে রিজার্ভ ব্যাংকের ডিজিটাল কারেন্সি বা CBDC ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অমিত শাহের মতে, আগে গণবণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব ও দুর্নীতির যে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ আসত, এই ডিজিটাল পরিকাঠামো তা সমূলে নির্মূল করবে। সুবিধাভোগী তাঁর প্রাপ্য ৫ কেজি শস্য সঠিকভাবেই পাবেন এবং কোনো স্তরেই মধ্যস্বত্বভোগীরা ভাগ বসাতে পারবে না।

আগামী ৩-৪ বছরে সারা দেশে রূপায়ণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে এই ডিজিটাল রেশন মডেলটি সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, দেশের ১ লক্ষ ৭ হাজারেরও বেশি গ্রামে ইতিমধ্যে ইন্টারনেট পৌঁছে যাওয়ায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়েছে। ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’-এর পর এটিই খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। আপাতত গান্ধীনগর থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।