“ছেলের বিটেক ডিগ্রি কি ভাতার লাইনে দাঁড়ানোর জন্য?”— কাটোয়ায় মায়ের কান্না উসকে দিল কর্মসংস্থান বিতর্ক

রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করার শিবিরে সোমবার এক মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কাটোয়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। ছেলের জন্য দেড় হাজার টাকার ভাতার ফর্ম তুলতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন কৃষ্ণা দত্ত নামে এক প্রৌঢ়া। তাঁর আক্ষেপ, ছেলে বিটেক (B.Tech) পাশ করেও আজ বেকার। উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি থাকলেও মেলেনি সম্মানজনক কাজ, তাই বাধ্য হয়েই ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
শুধু কাটোয়া নয়, জেলা থেকে জেলা জুড়ে একই ছবি। বেহালা থেকে কোচবিহার—হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতী লাইনে দাঁড়িয়েছেন মাসে ১৫০০ টাকার আশায়। কিন্তু এই সাহায্য নিয়ে খুশি নন অনেকেই। মহিষাদলের কেয়া জানা বা আসানসোলের শুভদীপদের কথায়, “এক কাপ চা আর বিস্কুটের খরচ ছাড়া দিনে ৫০ টাকায় কী হয়? এর চেয়ে ১৫ হাজার টাকার একটা স্থায়ী চাকরি হলে অনেক বেশি উপকার হতো।” আবেদনকারীদের অনেকেরই দাবি, ফর্ম ফিলাপ বা যাতায়াতের সামান্য খরচ মিটলেও সম্মানজনক ভবিষ্যতের জন্য দরকার প্রকৃত কর্মসংস্থান। ‘কিছু না পাওয়ার থেকে কিছু পাওয়া ভালো’—এই মন্ত্রেই কি তবে ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের শিক্ষিত বেকাররা? প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।