“আমায় খুঁজো না, চাইলে শ্মশানের পুকুরে দেখো”— নিখোঁজ ছাত্রীর চিরকুট ঘিরে শিউরে উঠছে গুরুগ্রাম!

তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হলো একাদশ শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীর নিথর দেহ। গুরুগ্রামের একটি গ্রামের শ্মশান সংলগ্ন পুকুর থেকে ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এই মৃত্যুর চেয়েও বেশি রহস্য দানা বেঁধেছে ছাত্রীর রেখে যাওয়া একটি চিঠিতে। নিখোঁজ হওয়ার আগে নিজের ডায়েরিতে সে মা-বাবার উদ্দেশ্যে লিখে গিয়েছিল, তাকে যেন খোঁজা না হয়। আর একান্তই যদি খুঁজতে হয়, তবে যেন গ্রামের শ্মশানের পাশের পুকুরটিতেই দেখা হয়। নিজের দেহের হদিস নিজেই দিয়ে গিয়েছিল ওই কিশোরী।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে পড়ার নাম করে নিজের ঘরে যায় ওই ছাত্রী। পরের দিন সকালে মা-বাবা দেখেন ঘর ফাঁকা। হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করার পর পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। এমনকি মেয়ের সন্ধান দিলে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সে। পরে তদন্তে নেমে পুলিশ ছাত্রীর ঘর থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করে, যেখানে লেখা ছিল, “মা-বাবা আমায় ক্ষমা করো। আমি দাদুর কাছে চলে যাচ্ছি। আমায় খুঁজো না। আর খুঁজলে শ্মশানের কাছের পুকুরে খুঁজো।”
ডায়েরির সেই সূত্র ধরেই পুলিশ ডুবুরি নামিয়ে এবং পাম্প দিয়ে পুকুরের জল বের করে তল্লাশি চালায়। কাদায় আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার হয় ছাত্রীর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, একজন মেধাবী ছাত্রী কেন এমন চরম পথ বেছে নিল, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। স্কুল ইউনিফর্ম পরেই কেন সে আত্মঘাতী হলো, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে— সব দিক খতিয়ে দেখছে গুরুগ্রাম পুলিশ।