DA নিয়ে নবান্নে মহাপ্রলয়! ৩১ মার্চের মধ্যে দিতেই হবে ১০,৪০০ কোটি, মমতার মাস্টারপ্ল্যান কী?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে গেলে নবান্নের ওপর প্রায় ১০,৪০০ কোটি টাকার আকাশছোঁয়া আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, একদিকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে বাজেটে নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণার ফলে রাজ্যের কোষাগারের ওপর ইতিমধেই ২২,৭০০ কোটি টাকার বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বকেয়া ডিএ-র বিপুল অর্থ জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের কাছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছিল, ডিএ কোনো দয়ার দান নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। আদালত সাফ জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়ার অন্তত ২৫ শতাংশ চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই মেটাতে হবে।
এই পাহাড়প্রমাণ সংকটের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার কি নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ‘রিভিউ পিটিশন’ দাখিল করবে, নাকি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির নির্দেশ মেনে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেবে—তা নিয়েই এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এখন তাকিয়ে আছেন নবান্নের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।