গাফিলতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার? বাংলার ৭ অফিসারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় রাজ্যের ৭ জন নির্বাচনী আধিকারিককে (AERO) অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপে জেলা শাসকের দপ্তর থেকে নবান্ন— সর্বত্রই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যর মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই মর্মে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে খবর, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩সিসি ধারার অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই অফিসারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের দুই AERO, সুতি, ময়নাগুড়ি, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ এবং ডেবরা বিধানসভার একজন করে AERO। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘এসআইআর’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সমীক্ষার কাজে গুরুতর গাফিলতি, তথ্যে অসঙ্গতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনও বিলম্ব না করে এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং রাজ্য কী পদক্ষেপ করছে, তা কমিশনকে রিপোর্ট আকারে পাঠাতে হবে।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় ‘ভুতুড়ে’ বা ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর অভিযোগ বাংলার ভোট রাজনীতিতে নতুন নয়। এর আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ৪ জন আধিকারিক— তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলা। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে দেরি হওয়ায় খোদ মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলবও করা হয়েছিল।

রবিবার শুধু সাসপেনশনই নয়, ‘ফর্ম ৭’ (ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন) নিয়েও নতুন ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে কমিশন। সোমবারের মধ্যেই সমস্ত জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তি করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইআরও এবং এইআরও-দের। সব মিলিয়ে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন যে এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, তা এই প্রশাসনিক ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ থেকেই পরিষ্কার।