বিশ্বের ১ নম্বর ব্যাটারের এ কী দশা! টানা ২ ম্যাচে ‘ডাক’, পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ডুবল অভিষেকের তরী

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কোটি কোটি হৃদস্পন্দনের ওঠানামা। কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে গ্যালারি যখন ‘ইন্ডিয়া-ইন্ডিয়া’ চিৎকারে উত্তাল, ঠিক তখনই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একরাশ হতাশা নিয়ে এল অভিষেক শর্মার উইকেট। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে টুর্নামেন্টে পা রাখা অভিষেকের জন্য এই বিশ্বকাপ যেন আক্ষরিক অর্থেই এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাত্র ৪ বল ক্রিজে টিকে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফিরলেন এই তরুণ তুর্কি।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দিয়েছিলেন পাক অধিনায়ক সালমান আঘা। নতুন বল হাতে নিজেই আক্রমণ শুরু করেন তিনি। অসুস্থতা কাটিয়ে দলে ফেরা অভিষেকের শারীরিক ভাষা আজ মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। গত কয়েকদিন ধরে পেটের সমস্যায় ভুগেও দেশের টানে মাঠে নেমেছিলেন তিনি, কিন্তু ভাগ্য তাঁর সহায় হলো না। সালমান আঘার চতুর্থ বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে যখন তিনি মাথা নিচু করে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটছিলেন, তখন গ্যালারির গর্জন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায়। আমেরিকার বিরুদ্ধে গত ম্যাচে প্রথম বলে আউট হওয়ার পর আজ কলম্বোতেও শূন্য হাতে ফেরা—অভিষেকের অফ-ফর্ম এখন টিম ইন্ডিয়ার থিঙ্কট্যাঙ্কের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ছবিটা আরও ভয়াবহ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বর্তমান বিশ্বসেরা ব্যাটার তাঁর শেষ ৬টি আন্তর্জাতিক ইনিংসের ৪টিতেই খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। পাওয়ার প্লে-তে যাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতের প্রধান শক্তি হওয়ার কথা ছিল, সেই অভিষেকই এখন দলের দুর্বলতম লিঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মাঠে নামার সাহস প্রশংসনীয় হলেও, পারফরম্যান্সের বিচারে ১ নম্বর ব্যাটারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা মেনে নেওয়া কঠিন। এখন প্রশ্ন একটাই, বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের আগে কি ছন্দে ফিরতে পারবেন অভিষেক, নাকি এই অফ-ফর্মই কেড়ে নেবে তাঁর সিংহাসন?