পাক বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা! কলম্বোর কঠিন পিচে ঈশানের বিধ্বংসী রেকর্ড, কাঁপছে পাকিস্তান

কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে আজ যা দেখা গেল, তাকে কেবল ক্রিকেট ম্যাচ বললে ভুল হবে; এ ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক মহাযুদ্ধ। ভারত বনাম পাকিস্তানের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। কলম্বোর পিচ আজ ছিল স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান এক অনন্য কৌশল গ্রহণ করে—ম্যাচে মোট ছয়জন স্পিনার ব্যবহার করে তারা। কিন্তু পাক স্পিন-জালে সূর্যকুমাররা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও, সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিলেন ভারতের ‘পকেট ডিনামাইট’ ঈশান কিষাণ।

শুরুটা অবশ্য ভারতের জন্য সুখকর ছিল না। ইনফর্ম ওপেনার অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগেই সলমন আঘার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু চাপের মুখে দমে না গিয়ে পালটা আক্রমণের পথ বেছে নেন ঈশান। শাহিন আফ্রিদিকে ছক্কা মেরে শুরু করা সেই ইনিংস থামল এক অনন্য উচ্চতায়। মাত্র ২৭ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে ঈশান ভেঙে দিলেন ২০১২ সালে গড়া যুবরাজ সিংয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির মালিক এখন এই তরুণ তুর্কি। শেষ পর্যন্ত ১০টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪০ বলে ৭৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে সঈম আয়ূবের বলে আউট হন তিনি। রবি শাস্ত্রীর ভাষায়, “বাকিরা যখন ধুঁকছিল, ঈশান তখন অন্য গ্রহের ব্যাটিং করছিল।”

ঈশান আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের স্পিনাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। সঈম আয়ূব একে একে তুলে নেন তিলক বর্মা (২৫) ও হার্দিক পান্ডিয়াকে (০)। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ২৯ বলে ৩২ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও উসমান তারিকের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে শেষবেলায় শিবম দুবের ১৭ বলে ২৭ এবং রিঙ্কু সিংয়ের ঝোড়ো ক্যামিও ভারতকে পৌঁছে দেয় ১৭৫/৭-এ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাক ব্যাটারদের জন্য কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, ভারতীয় বোলাররা এই পুঁজি রক্ষা করে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।