পুতিন-বিরোধী নাভালনিকে খুনে ব্যবহৃত ‘ভয়ংকর বিষ’! বিস্ফোরক রিপোর্টে চাঞ্চল্য বিশ্বজুড়ে

রাশিয়ার বিরোধী নেতা তথা ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুর দু’বছর পর এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে এল। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস—এই পাঁচটি দেশ শনিবার যৌথভাবে জানিয়েছে যে, নাভালনির শরীরে ‘এপিবাটিডিন’ (Epibatidine) নামক এক প্রাণঘাতী বিষের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এই বিষ অত্যন্ত বিরল এবং এটি দক্ষিণ আমেরিকার ‘ডার্ট ফ্রগ’ বা এক বিশেষ ধরনের ব্যাঙের ত্বক থেকে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটি একটি ভয়ংকর নিউরোটক্সিন যা মুহূর্তের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্র বিকল করে দিতে পারে।

রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার? নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া সামাজিক মাধ্যমে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে সরাসরি পুতিনকে আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি জানতাম আমার স্বামীকে বিষ দিয়েই মারা হয়েছে, আজ তার প্রমাণ পেলাম। পুতিন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে অ্যালেক্সিকে হত্যা করেছে।” ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ, রাশিয়ার কাছে এই বিষ তৈরি ও প্রয়োগের পরিকাঠামো ছিল এবং এটি আন্তর্জাতিক ‘কেমিক্যাল উইপনস কনভেনশন’-এর চরম লঙ্ঘন।

আর্কটিকের জেলে শেষ রক্ষা হয়নি ২০২০ সালে ‘নোভিচক’ বিষ থেকে বেঁচে ফিরলেও, ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক পেনাল কলোনির কুখ্যাত কারাগারে নাভালনির মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করার মাঝেই প্রশাসনের ‘চক্ষুশূল’ এই নেতাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হল বলে মনে করছে পশ্চিমা বিশ্ব। এই নয়া রিপোর্ট এখন আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড়সড় নিষেধাজ্ঞার পথ প্রশস্ত করতে পারে।