শিলিগুড়িতে প্যারামেডিক্যাল কোর্সের নামে বড়সড় জালিয়াতি! গ্রেফতার ডিরেক্টর ও প্রিন্সিপাল সহ ৭

পাহাড় থেকে সমতল, ফের শিলিগুড়িতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধল জালিয়াতির রহস্য। প্যারামেডিক্যাল কোর্সের আড়ালে ভোকেশনাল ট্রেনিং দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শহর। এই ঘটনায় সংস্থার তিন ডিরেক্টর, অধ্যক্ষ এবং দুই মহিলা কর্মীসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হলে দুই মহিলার জেল হেফাজত এবং বাকিদের তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

অভিযোগের কেন্দ্রে কী রয়েছে?
তদন্তের সূত্রপাত দার্জিলিংয়ের এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি করানোর নাম করে তাঁদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নথিপত্র হাতে পেতেই দেখা যায়, সেখানে কোর্সটিকে ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যের গরমিল সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রীদের একাংশ।

পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি লড়াই
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সংস্থাটি প্যারামেডিক্যাল কোর্স চালানোর মতো বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, “ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। প্যারামেডিক্যালের নামে ভোকেশনাল কোর্স করানো একটি গুরুতর অপরাধ।” অন্যদিকে, ধৃতদের জামিনের আবেদন খারিজ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে চাইছে পুলিশ।

পাল্টা বিক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এদিন আদালত চত্বরে তৈরি হয় এক নাটকীয় পরিস্থিতি। ধৃতদের সমর্থনে প্রায় ৩০-৩৫ জন পড়ুয়া বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, তাঁরা জেনেশুনেই ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন এবং অনেকেই সাফল্য পেয়েছেন। সংস্থার কর্মীদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনায় এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।