‘বোনের বিচার চাই!’ স্কুটিতে সুইসাইড নোট লিখে মহানন্দা ক্যানেলে ঝাঁপ দাদার

রবিবারের সকালে এক লহমায় বদলে গেল ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মহানন্দা ক্যানেল পাড়ের দৃশ্যপট। এক ৫০ বছর বয়সী প্রৌঢ় তাঁর স্কুটি থামিয়ে ডিকিতে সযত্নে রাখলেন নিজের মোবাইল, দোকানের চাবি আর একটি ছোট্ট চিরকুট। তাতে বড় বড় হরফে লেখা— ‘জাস্টিস ফর সিস্টার’ (বোনের বিচার চাই)। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্যানেলের খরস্রোতা জলে ঝাঁপ দিলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে চোখের আড়ালে চলে যান ওই ব্যক্তি, যার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দার্জিলিং জেলায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ওই প্রৌঢ় প্রতিদিনের মতোই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর গন্তব্য যে মহানন্দা ক্যানেলের এই মৃত্যুকূপ হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পরিজনরা। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করে তাঁর স্কুটিটি। ডিকি খুলতেই বেরিয়ে আসে সেই রহস্যময় নোট। ‘জাস্টিস ফর সিস্টার’—কাকে উদ্দেশ্য করে এই বার্তা? তাঁর বোনের সাথে ঠিক কী ঘটেছিল যার বিচার চেয়ে একজন প্রৌঢ়কে জীবনের চরম পথ বেছে নিতে হলো? এই প্রশ্নগুলোই এখন পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে।

বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DDRF) স্পিড বোট নিয়ে ক্যানেলের মাইলের পর মাইল তল্লাশি চালালেও বিকেল পর্যন্ত ওই ব্যক্তির হদিস মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে জিনিসপত্র শনাক্ত করলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌমজিৎ রায় জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে পারিবারিক কোনো ঘটনার বিচার না পেয়েই তিনি এই কাজ করেছেন। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।” কোনো পুরনো অমীমাংসিত অপরাধ নাকি নতুন কোনো অত্যাচারের বিচার না পেয়েই এই আর্তনাদ, তা ওই প্রৌঢ় উদ্ধার হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে।