‘বাজেটে শুধু বাংলা, অন্য ভাষা নৈব নৈব চ!’ কাউন্সিলরদের কড়া ফতোয়া তৃণমূলের

কলকাতা পুরসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশন এবার কেবল উন্নয়নের খতিয়ান নয়, হয়ে উঠতে চলেছে ‘বাঙালি অস্মিতা’ প্রমাণের বড় মঞ্চ। গত কয়েক বছরে পুর-বাজেটের আলোচনায় কেউ ঝরঝরে ইংরেজি, কেউ হিন্দি, আবার কেউ উর্দু শায়েরিতে নিজের বক্তব্য সাজাতেন। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক ধাক্কায় সেই বহুভাষিকতায় ইতি টানল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে কড়া ‘হুইপ’ জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের কোনো কাউন্সিলর বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় বক্তব্য রাখতে পারবেন না।

পুরসভার মুখ্য সচেতক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের এই নির্দেশকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি কোনো সংকীর্ণতা নয়, বরং বাংলা ভাষার ওপর ক্রমাগত আক্রমণের যোগ্য জবাব। সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্থা করার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতেই এই ‘বেঙ্গল কার্ড’ খেলছে শাসক শিবির। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই সংসদে এবং এখন পুরসভায় বাংলাকে প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে।

বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত সাফ জানিয়েছেন, “রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমচন্দ্র-বিবেকানন্দের ভাষায় কথা বলায় যদি অপমানিত হতে হয়, তবে তার জবাব অধিবেশনেই দিতে হবে।” এর আগে ইংরেজিতে প্রশ্ন করায় এক কাউন্সিলরকে ধমক খেতে হয়েছিল, এবার তা নিয়ম হিসেবে কার্যকর হলো। বিরোধীরা অবশ্য প্রশ্ন তুলছেন, গণতান্ত্রিক পরিসরে ভাষা চাপিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? তবে শাসকদল স্পষ্ট করে দিয়েছে—কলকাতার বাজেট হবে খাস বাংলাতেই। প্রশাসনিক স্তরেও দোকানের নামফলক বা বাড়ির নকশায় বাংলার বাধ্যতামূলক ব্যবহারের যে ধারা শুরু হয়েছে, বাজেটের এই ‘হুইপ’ তারই চূড়ান্ত রূপ।