ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রেমিকার বুকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী যুবক! নয়ডার ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ

ভালোবাসার দিনে রক্তস্নাত নয়ডা! সেক্টর ৩৯ থানা এলাকায় একটি বিলাসবহুল গাড়ি থেকে উদ্ধার হলো এক যুগলের গুলিবিদ্ধ দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বললেও, সুমিত ও রেখার এই মৃত্যু ঘিরে একের পর এক এমন সব তথ্য উঠে আসছে, যা রীতিমতো রহস্যরোমাঞ্চ সিনেমাকেও হার মানায়। একদিকে দীর্ঘ ১৫ বছরের গভীর সম্পর্ক, অন্যদিকে জাতপাতের বিতর্ক আর প্রতারণার অভিযোগ—সব মিলিয়ে নয়ডার পুলিশ এখন গোলকধাঁধায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লির ত্রিলোকপুরীর বাসিন্দা সুমিত ও নয়ডার রেখা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, সুমিতের ফোন থেকে একটি দীর্ঘ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তিনি রেখার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছিলেন। বার্তায় লেখা ছিল, “রেখা আমায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চলেছে, তাই আমি ওকে মেরে নিজেও শেষ হয়ে যাচ্ছি।” গাড়ির ভেতর থেকে একটি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে এবং গাড়িটি ভেতর থেকে লক করা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে এই ‘প্রেমঘটিত আত্মহত্যার’ তত্ত্ব মানতে নারাজ সুমিতের পরিবার। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। রেখার পরিবারের বিরুদ্ধে জাতপাতের কারণে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। সুমিতের আত্মীয়দের দাবি, রেখার গ্রামের মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে গাড়িটি পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। সুমিতের পরিবার আরও অভিযোগ করেছে যে, তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হুমকি পাচ্ছিলেন। ১৫ বছরের পুরনো সম্পর্কের এমন মর্মান্তিক পরিণতি কি নিছকই মনের অভিমান, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক বিভেদ আর অনার কিলিং-এর কালো ছায়া? ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় এখন দিন গুনছে দুই পরিবার।