কাঁটা কম, দামও সস্তা! কিন্তু পাঙ্গাস খেলে কি আপনার শরীরে বাসা বাঁধছে মারণ রোগ?

বাজারে গেলে যে মাছটি সবচেয়ে সহজে এবং সস্তায় চোখে পড়ে, তা হলো পাঙ্গাস। মধ্যবিত্তের রান্নাঘর থেকে ব্যাচেলরদের মেস—সর্বত্রই এর অবাধ বিচরণ। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই মাছকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় আতঙ্ক। কেউ বলছেন এটি ‘বিষে ভরা’, কেউবা দাবি করছেন এতে কোনো পুষ্টিই নেই। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে আসল সত্যিটা ঠিক কী?
কেন খাবেন পাঙ্গাস? কম দামে প্রোটিনের জোগান দিতে পাঙ্গাসের জুড়ি মেলা ভার। যাঁরা নিয়মিত মাছ-মাংসের পেছনে বড় খরচ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি প্রোটিনের অন্যতম সেরা বিকল্প। শরীরের পেশি গঠন এবং কোষ মেরামতিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। পাঙ্গাস মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা আয়রন ও ফসফরাস আপনার রক্তশূন্যতা দূর করে হাড়ের স্বাস্থ্য মজবুত রাখে।
বিতর্কের মূলে কী আছে? পাঙ্গাস মূলত চাষের মাছ এবং এটি দ্রুত বড় হয়। অভিযোগ ওঠে, অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছ দ্রুত বাড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক ও অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। যদি দূষিত পরিবেশে মাছ চাষ করা হয়, তবে তা মানুষের শরীরের জন্য অ্যালার্জি বা হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর চাষের মাছ খেলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা (Resistance) কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: আতঙ্কিত হওয়ার বদলে সচেতন হওয়া জরুরি। মাছ কেনার সময় বিশ্বাসযোগ্য দোকান থেকে তাজা মাছ বেছে নিন। রান্না করার আগে খুব ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত তেলে ভাজলে পাঙ্গাসের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়; তাই ঝোল বা হালকা তেল-মসলায় রান্না করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন একই মাছ না খেয়ে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনুন। পাঙ্গাস কোনো বিষ নয়, বরং নিয়ম মেনে সঠিক উৎস থেকে সংগৃহীত হলে এটি আপনার সাধ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পুষ্টিদায়ক খাবার হতে পারে।