তারেক ঝড় বঙ্গে! ২০ বছর পর ঢাকার তখতে বিএনপি, কোন জাদুতে ধরাশায়ী বিরোধীরা?

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান। ২০২৬ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। দেশজুড়ে বইছে ‘ধানের শীষ’-এর হাওয়া। ভোট গণনার শেষে দেখা যাচ্ছে, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট একাই দখল করেছে ২১২টি আসন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জামায়াতে ইসলামী’ জোট, যাদের ঝুলিতে এসেছে ৭৭টি আসন।

বাংলাদেশের মোট ৮টি বিভাগের নির্বাচনী মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ৭টি বিভাগেই একচেত্র আধিপত্য কায়েম করেছে বিএনপি। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে রেকর্ড ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিরোধীদের ধরাশায়ী করেছে তারেক রহমানের দল। এছাড়া ঢাকা (৫১.৮৮%), চট্টগ্রাম (৫১.৪৬%) এবং ময়মনসিংহেও (৫৩.৮৮%) নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে তারা। এমনকি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলেও এবার বিএনপির ভোটব্যাঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দলের গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তবে সাফল্যের এই জোয়ারের মাঝেও একমাত্র ‘খুলনা’ বিভাগে বিএনপিকে জোর টক্কর দিয়েছে জামাত। খুলনার ৩৬টি আসনের মধ্যে জামাত জোট জিতেছে ২২টিতে, যেখানে বিএনপিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ১৪টি আসনে। শতাংশের বিচারেও এখানে জামাত (৪৮.২৬%) বিএনপিকে (৪৩.৫৫%) পিছনে ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও অ্যান্টি-ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করেছে জামাত।

আগামী ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজকীয় দরবারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাকে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল।