টালিগঞ্জের বিলাসবহুল আবাসনে দাউদাউ আগুন! প্রাণভয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় যশ-নুসরত

রবিবাসরীয় ছুটির আমেজে শহর যখন বুঁদ, ঠিক তখনই টালিগঞ্জের এক অভিজাত বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই প্রাণ বাঁচাতে দুই সন্তানকে বুকে আগলে রাস্তায় নেমে এলেন তারকা দম্পতি যশ দাশগুপ্ত ও নুসরত জাহান। শুধু তাঁরাই নন, হুড়মুড়িয়ে নীচে নেমে আসতে দেখা যায় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতীয় পুরস্কার জয়ী পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রকেও। উল্লেখ্য, এই আবাসনেই একসময় থাকতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সকালে টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালীমন্দির সংলগ্ন ওই বিলাসবহুল আবাসনটির পাঁচ তলায় হঠাৎই আগুনের শিখা দেখতে পাওয়া যায়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা বহুতল। তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয় লিফট। ১৮ তলার বাসিন্দা পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র তাঁর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে নিয়ে কোনওমতে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসেন। তিনি বলেন, “কালো ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে গিয়েছিল, লিফট বন্ধ থাকায় অসুস্থ মাকে নিয়ে নামতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে এখন আমরা সুরক্ষিত।”
দমকলের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এদিন শিবরাত্রি উপলক্ষে পাঁচ তলার একটি ফ্ল্যাটে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানকার বাসিন্দারা ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করার পর সেই প্রদীপ না নিভিয়েই আবাসনেরই মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। অনুমান করা হচ্ছে, জ্বলন্ত প্রদীপ থেকেই পর্দা বা আসবাবপত্রে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
যশ-নুসরতের ফ্ল্যাটটি ছিল ঠিক আগুনের উৎসের উপরের তলাতেই, ফলে আতঙ্কের মাত্রা ছিল চরমে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর পোষ্য সারমেয়গুলিকেও তড়িঘড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেলেও রবিবারের এই ঘটনায় টালিগঞ্জের ওই তারকাখচিত আবাসনে এখনও আতঙ্কের রেশ কাটেনি।