বিস্ফোরক প্রস্তাব! ডুয়ার্সের চা-বাগানে এবার কি মাথা তুলবে হাইটেক আইটি পার্ক ও উপনগরী?

উত্তরবঙ্গের চা-শিল্পে কি এবার এক আমূল পরিবর্তনের সুর বাজতে চলেছে? গতানুগতিক চায়ের ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে এবার চা-বাগানের অব্যবহৃত জমিতে উপনগরী (Township), তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক (IT Park) এবং লজিস্টিক হাব তৈরির এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব দিল মালিকপক্ষ। রবিবার জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল ডুয়ার্স ক্লাবে আয়োজিত ‘টি-অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (TAI)-র ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে।
মালিকপক্ষের দাবি, শুধুমাত্র টি-ট্যুরিজম বা পর্যটন দিয়ে এখনকার সংকটাপন্ন চা-শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বর্তমানে খামখেয়ালি আবহাওয়া, পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং শ্রমিকদের বাগান ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই শিল্পকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই চা-বাগানের যে বিশাল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছে সংগঠনটি।
২০১৯ সালে রাজ্য সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, চা-বাগানের ১৫ শতাংশ অব্যবহৃত জমিতে পর্যটনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করা যাবে। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ সালে সেই জমির পরিমাণ কিছুটা বাড়ানোও হয়েছে। তবে টি-অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল প্রবীর ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা চাই এই অব্যবহৃত জমিতে আমাদের পছন্দমতো প্রজেক্ট করার স্বাধীনতা। বীরপাড়া বা ডুয়ার্সের কৌশলগত জায়গায় যদি আমরা আবাসন, নামী স্কুল-কলেজ বা আইটি পার্ক করতে পারি, তবেই সেই জমি থেকে প্রকৃত রাজস্ব আদায় সম্ভব।”
সভায় উপস্থিত টি-অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শৈলজা মেহতা বলেন, “উন্নত মানের চা উৎপাদনের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু প্রকৃতির প্রতিকূলতা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।” অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাজ্য সরকার তাদের এই প্রস্তাব মেনে নিলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চেহারাটাই বদলে যাবে। তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক বা ফুড পার্কের মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থানেরও ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন বল নবান্নের কোর্টে; রাজ্য সরকার এই ‘মেগা’ প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দেয় কি না, সেটাই দেখার।