ঢাকা থেকে এল মোদীকে বিশেষ আমন্ত্রণ! ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে এবং এক সময়কার প্রবল প্রতাপশালী নেতা শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে বিশাল জয় পেয়েছে বিএনপি। এই জয়ের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। ইতিপূর্বেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ফোন করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।

মোদীর উপস্থিতিতে অনিশ্চয়তা কেন? ঢাকা থেকে আমন্ত্রণ এলেও প্রধানমন্ত্রী মোদী এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-র সঙ্গে মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দিল্লিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত একটি মেগা সামিটেও তাঁর যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ফলে মোদী নিজে না গিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি বা উপ-রাষ্ট্রপতিকে ঢাকায় পাঠাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

উপস্থিত থাকছেন পাকিস্তান ও চীনের প্রতিনিধিরা: অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মোট ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এই শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার এবং নেপাল-ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর বিদেশনীতির প্রধান ভিত্তি হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। তিনি জানিয়েছেন, ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে তিনি আগ্রহী এবং কোনো দেশকেই ‘প্রভু’ হিসেবে দেখেন না।