বাংলাদেশে ‘বিজেপি’-র জয়! ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ না নিছকই নামের মিল? জানুন আসল সত্য!

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এখন স্পষ্ট। প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে একাই জয়লাভ করেছে বিএনপি। তাদের নেতৃত্বাধীন জোট সব মিলিয়ে ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। তবে এই জয়ের খবরের মাঝেই ভারতের জন্য একটি বিশেষ সংবাদ কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে—তা হলো বাংলাদেশে ‘বিজেপি’-র জয়।
বিভ্রান্তি কাটল বিজেপির নামে: নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ‘বিজেপি’ একটি আসনে জয়লাভ করেছে। ভারতের শাসক দলের সঙ্গে নাম মিলে যাওয়ায় অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। তবে বিষয়টি খোলসা হতে সময় লাগেনি। বাংলাদেশে জয়ী এই ‘বিজেপি’ হলো ‘বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি’। ভোলা-১ আসন থেকে এই দলের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ জয়ী হয়েছেন। ভারতের বিজেপির সঙ্গে এই দলের আদর্শগত বা সাংগঠনিক কোনো সম্পর্কই নেই।
নির্বাচনী ফলাফল একনজরে: বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেলেও তাদের মিত্র দলগুলো ১টি করে আসন পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে গণ সংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ এবং আন্দালিব রহমানের বিজেপি। অন্যদিকে, নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জামায়াতে ইসলামী’। তারা ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফল।
হাসিনার তোপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ভারতের দিল্লিতে আশ্রিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রধানের দাবি, এটি ‘প্রতারণা ও প্রহসনের নির্বাচন’। তিনি একে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হাসিনাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জয়ের পরপরই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত ছাড়াও চীন, পাকিস্তান, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে তারেক রহমানের প্রতি শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে। আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে চলেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।