বাংলাদেশে ‘তারেক জামানা’! রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান, চমক থাকছে মন্ত্রিসভায়!

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা আর ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় ও ঢাকার গুলশান কার্যালয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখন নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেল: বিএনপির অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদের মতো ঝানু নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ মুখ এবারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন।
উপদেষ্টা পদে ‘চেনা’ মুখের চমক: সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানাচ্ছে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর দলের কঠিন সময়ে হাল ধরা এবং এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সফল নজরুল ইসলাম খান নতুন সরকারের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হতে চলেছেন।
সংখ্যালঘু ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব: তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এবারের সরকার হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। মন্ত্রিসভায় দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। চট্টগ্রাম, পার্বত্য এলাকা এবং সিলেট অঞ্চলের নেতাদের পাশাপাশি অ-মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং চিকিৎসক নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নামও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে।
নির্বাচন ও শপথ গ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ঢাকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, এক নতুন রাজনৈতিক ভোরে পা রাখতে চলেছে বাংলাদেশ।