বিজ্ঞানও হার মেনেছে! ভারতের এই ৪ শিব মন্দিরের অলৌকিক রহস্য জানলে কপালে চোখ উঠবে!

আজ মহাশিবরাত্রি। ফাল্গুন মাসের এই পবিত্র তিথিতে সারা দেশ মেতে উঠেছে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায়। হিন্দু শাস্ত্র মতে, শিবলিঙ্গ হলো ব্রহ্মাণ্ডের সেই আদি ও অন্তহীন শক্তির প্রতীক। তবে ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে এমন চারটি শিব মন্দির রয়েছে, যাদের অলৌকিক ঘটনা আধুনিক বিজ্ঞানকেও চ্যালেঞ্জ জানায়। হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও এই মন্দিরগুলির রহস্য আজও অমীমাংসিত।

১. অচলেশ্বর মহাদেব (রাজস্থান): দিনে তিনবার রং বদল! রাজস্থানের ধোলপুর জেলায় অবস্থিত অচলেশ্বর মহাদেব মন্দির এক বিস্ময়কর স্থান। এখানে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গটি দিনে তিনবার তার গায়ের রং পরিবর্তন করে। কাকভোরে সূর্যের প্রথম রশ্মি পড়লে এটি টকটকে লাল দেখায়, দুপুর গড়াতেই তার রঙ হয়ে যায় গেরুয়া। আবার সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শিবলিঙ্গটি গাঢ় কালো বর্ণ ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর পরীক্ষা করেও এই বর্ণ পরিবর্তনের কোনো ভৌতিক বা রাসায়নিক কারণ খুঁজে পাননি।

২. ছায়া সোমেশ্বর মন্দির (তেলেঙ্গানা): স্তম্ভহীন রহস্যময় ছায়া! তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারদের কাছেও এক গোলকধাঁধা। মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা শিবলিঙ্গটি সারাদিন একটি স্তম্ভের ছায়ায় ঢাকা থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শিবলিঙ্গের আশেপাশে এমন কোনো স্তম্ভই নেই যা এই ছায়া ফেলতে পারে। এই ‘অদৃশ্য’ স্তম্ভের ছায়া কোথা থেকে আসে, তা আজও এক রহস্য।

৩. লক্ষ্মণেশ্বর মহাদেব (ছত্তিশগড়): পাতালের প্রবেশ পথ! ছত্তিশগড়ের এই প্রাচীন মন্দিরে অবস্থিত শিবলিঙ্গটিকে ‘লক্ষলিঙ্গ’ বলা হয়, কারণ এতে লক্ষ লক্ষ ছোট ছিদ্র রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি ছিদ্র সরাসরি পাতালের সঙ্গে যুক্ত। ভক্তরা যতই জল ঢালুন না কেন, সেই গর্ত কখনও পূর্ণ হয় না। আবার এর ঠিক উল্টোদিকে আর একটি ছিদ্র রয়েছে যা প্রচণ্ড দাবদাহেও জলে টইটম্বুর থাকে। এই জল কোথা থেকে আসে আর কোথায় হারিয়ে যায়, তার হদিশ মেলেনি আজও।

৪. হরিহরেশ্বর মন্দির (মহারাষ্ট্র): ৩৫৯টি মুখের শিবলিঙ্গ! সোলাপুরে অবস্থিত এই মন্দিরটি ভাস্কর্যের এক অনন্য নিদর্শন। ১১শ শতাব্দীর এই বিশাল শিবলিঙ্গটির ওজন প্রায় ৪.৫ টন। আশ্চর্যজনকভাবে, এই একটি শিবলিঙ্গের গায়ে ৩৫৯টি ছোট ছোট মুখ খোদাই করা আছে। প্রতিটি মুখের অভিব্যক্তি একে অপরের থেকে আলাদা। এটি শিব ও বিষ্ণুর একাত্ম রূপের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।