প্রধানমন্ত্রী হতেই হাসিনাকে দেশে ফেরাবেন তারেক রহমান? প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই এল বিস্ফোরক জবাব!

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। বাংলাদেশের মসনদে ফিরছে বিএনপি। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— ভারতে আশ্রিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) ইতিমধ্যেই হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছে। এই আবহে গতকাল, ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন তারেক রহমান।
হাসিনাকে দেশে ফেরানো সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হবু প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।” অর্থাৎ, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় এবং তা পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, তা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিচার বিভাগকে নির্বাহী এবং আইনসভা থেকে আলাদা রাখাই তাঁদের সরকারের লক্ষ্য। ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত।
কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার কড়া বার্তা: এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লিগ অংশ নিতে না পারায় এবং সমর্থকদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রথম কাজ। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনও প্রকার উসকানি বা অশান্তিতে তাঁরা পা না দেন।
হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তারেক রহমান সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভারতের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা করা হতে পারে, যা আগামী দিনে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে।