হোটেলের বন্ধ ঘরে শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ! রণক্ষেত্র আলিপুরদুয়ার, জ্বলল আগুন, ভাঙচুর দুই গাড়ি

উত্তরবঙ্গের শান্ত আলিপুরদুয়ারের রাঙালিবাজনা এলাকা শনিবার বিকেলে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল। এশিয়ান হাইওয়ের ধারে একটি হোটেলের ভেতর থেকে সুখেশ ওরাঁও (২৫) নামে এক আদিবাসী যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা হোটেলে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং হোটেলের দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মৃত সুখেশ ওরাঁও গোপালপুর চা বাগানের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলদলিয়া এলাকার ওই হোটেলে কাজ করছিলেন। পরিবারের দাবি, গত তিন দিন ধরে সুখেশের কোনো খোঁজ ছিল না। শনিবার সকালে হোটেলের একটি নির্জন ঘরে তাঁর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চা বাগান এলাকা থেকে শত শত মানুষ হোটেলের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই জনতা হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে দেয় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, মাদারিহাট, বীরপাড়া, জয়গাঁও এবং হাসিমারা— এই চার থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বীরপাড়া দমকল কেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

রাজনৈতিক উত্তাপ: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ওরাঁও বলেন, “একজন আদিবাসী শ্রমিকের এই রহস্যমৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা না করা হোক।” অন্যদিকে, স্থানীয় সমাজসেবী পরিমল ওরাঁও দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি খুন। আপাতত এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল জারি রয়েছে।