ট্রাম্পের শুল্ক-হুঁশিয়ারিতেই কি নতিস্বীকার? রুশ তেল নিয়ে মার্কিন সচিবের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি!

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার দড়িটানাটানি এবার এক নতুন মোড় নিল। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ভারত নাকি আশ্বাস দিয়েছে যে তারা আর অতিরিক্ত রুশ তেল কিনবে না। মস্কোর ওপর ওয়াশিংটনের নয়া নিষেধাজ্ঞার মাঝেই রুবিওর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

মার্কিন দাবি বনাম ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’

শনিবার রুবিও সাফ জানান, “আমেরিকা রাশিয়ার তেলের ওপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। বৈঠকে ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা আর অতিরিক্ত তেল কিনবে না।” তবে মার্কিন বিদেশসচিবের এই দাবি ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে, কারণ নয়াদিল্লি সরকারিভাবে এখনও এমন কোনও ঘোষণা করেনি।

উল্টে ওই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy) নীতিতে বিশ্বাসী। জয়শঙ্করের কথায়:

“আমরা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেব কি না—তার উত্তর হল, হ্যাঁ। তেলের জোগান, খরচ এবং ঝুঁকি খতিয়ে দেখেই ভারতীয় সংস্থাগুলি সিদ্ধান্ত নেয়।”

ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ ও লাভরভের পাল্টা

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে ভারত। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তির পর সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে এলেও রুশ তেল নিয়ে চাপ বজায় রেখেছে হোয়াইট হাউস।

মজার বিষয় হলো, সপ্তাহখানেক আগে স্বয়ং ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন যে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধে রাজি হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “মার্কিন আধিকারিকরা ছাড়া আর কেউ তেলের কথা বলেনি।”