সমুদ্রের বুকে ‘মহারাজ’ আইএনএস বিক্রান্ত! বিশাখাপত্তনমে নৌ-মহড়ায় কাঁপছে বিশ্ব, ভারতের শক্তিতে থমকে গেল চিন-পাক?

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ’ (IFR) ২০২৬। বিশ্বের প্রায় ৭০টিরও বেশি দেশের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং নৌবাহিনীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সমুদ্রের নীল জলরাশি এখন রণসাজে সজ্জিত। এই মেগা ইভেন্টের মূল আকর্ষণ হলো ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত (INS Vikrant)। সামরিক শক্তির এই বিশাল প্রদর্শনীতে বিক্রান্তের উপস্থিতি শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে তুলে ধরছে না, বরং এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।
এবারের ফ্লিট রিভিউটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একইসাথে ‘এক্সারসাইজ মিলন’ (MILAN) এবং ‘ইন্ডিয়ান ওশেন নেভাল সিম্পোজিয়াম’ (IONS)-এর সাথে যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে। বিশাখাপত্তনমের আরকে বিচে কুচকাওয়াজ থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্রে রণতরীর মহড়া—সব মিলিয়ে ভারতের নৌ-কূটনীতি এখন এক নতুন উচ্চতায়। আমেরিকা, রাশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো শক্তিশালী নৌবহর এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সমুদ্রপথে নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ভারত এই শক্তিশালী বার্তা পাঠাল। আইএনএস বিক্রান্তের ডেকে দাঁড়িয়ে নৌসেনা প্রধানের পরিদর্শন এবং অত্যাধুনিক মিগ-২৯কে (MiG-29K) যুদ্ধবিমানের গর্জন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত এখন বিশ্বমঞ্চের প্রধান কারিগর।