প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক, আমন্ত্রণ PM মোদীকে, থাকবে চিন-পাকিস্তানও

দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষার অবসান। বাংলাদেশে ফিরছে নির্বাচিত সরকার। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এবার মসনদে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। আগামী মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তিনি। একই সঙ্গে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।

কূটনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’: ১৩ দেশকে আমন্ত্রণ

ঢাকার এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটিকে বড়সড় কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। সূত্রের খবর, বিশ্বের ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।

আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় যারা রয়েছে:

  • ভারত, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব।

  • তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), কাতার, মালয়েশিয়া।

  • শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান এবং ব্রুনাই।

বিশেষজ্ঞদের মত: দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে এক মঞ্চে আনার এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের মতো পরস্পরবিরোধী শক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

উচ্ছ্বাসের মাঝেও কাঁটা বিছানো পথ অপেক্ষা করছে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ হলো: ১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: দীর্ঘ অস্থিরতার পর দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনীতিতে ভারসাম্য আনা। ২. অর্থনীতির পুনরুদ্ধার: ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরানো। ৩. আন্তর্জাতিক কূটনীতি: ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত করা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে যখন তারেক রহমান শপথ নেবেন, তখন গোটা বিশ্বের নজর থাকবে ঢাকার দিকে। এখন দেখার, এই নতুন সূচনা বাংলাদেশকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়।