বিয়েবাড়িতে গুলি লেগে বেঘোরে মৃত্যু নাবালকের, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লো গোটা এলাকায়

উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল কান্নায়। মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে ‘হর্ষ ফায়ারিং’ বা শখ করে গুলি চালানোর বলি হতে হলো ১৫ বছরের এক নাবালককে। মৃত কিশোরের নাম বিবেক। মর্মান্তিক বিষয় হলো, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই অভাবের তাড়নায় বিবেক ছিল তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য।

ঠিক কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার রাতে সাগর জেলায় সোনি পরিবারের একটি বিয়ের শোভাযাত্রা হলঘরের দিকে যাচ্ছিল। বিবেক সেই শোভাযাত্রায় ব্যান্ড বাজানোর কাজ করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শোভাযাত্রাটি যখন একটি মদের দোকানের সামনে পৌঁছায়, তখন বরযাত্রীদের মধ্যে থেকে এক যুবক হঠাৎই তাঁর পিস্তল বের করে গুলি চালান।

বিবেকের বন্ধু খিলান বনসাল জানান, “আমরা ভেবেছিলাম আতশবাজি ফাটানো হচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে দেখি বিবেক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।” গুলিটি সরাসরি বিবেকের বুকে লাগে। দ্রুত তাকে বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

উত্তাল এলাকা, পুলিশের তদন্ত

বিবেকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়রা। অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে হাসপাতাল ও থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।

পুলিশ আধিকারিক যশবন্ত সিং রাজপুত জানিয়েছেন:

  • সিসিটিভি ও ড্রোন ফুটেজ: অপরাধীকে শনাক্ত করতে বিয়েবাড়ির ড্রোন ফুটেজ এবং এলাকার সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • গ্রেফতারি: ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

পাথর হয়ে গেছেন বাবা-মা

বিবেকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। ব্যান্ড বাজিয়ে যে টাকা সে রোজগার করত, তা দিয়েই চলত বাবা-মায়ের অন্নসংস্থান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। তবে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দরিদ্র দম্পতি।