“১ ঘণ্টার যাত্রাপথ মাত্র ৬ মিনিটে!”-গুয়াহাটির ‘লাইফ লাইন’ হতে চলেছে ভাস্কর বর্মা সেতু

ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়কে এক সুতোয় গেঁথে দিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। শনিবার আসামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধন হলো ১.২৪ কিমি দীর্ঘ ‘কুমার ভাস্কর বর্মা’ সেতুর। এই সেতু চালুর ফলে উত্তর গুয়াহাটি থেকে মূল শহরে পৌঁছাতে এখন আর ১ ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হবে না, যাতায়াত সারা যাবে মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটে।
কেন এই সেতু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিস্ময়?
৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ৬ লেনের সেতুটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ‘এক্সট্রা ডোজ়ড’ (হাইব্রিড কম্বিনেশন) ব্রিজ। এর বিশেষত্বগুলি হলো:
-
ভূমিকম্প প্রতিরোধক: গুয়াহাটি ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (সিসমিক জোন-৫) এলাকায় অবস্থিত। তাই এই সেতুতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ‘পেন্ডুলাম বিয়ারিং’, যা প্রবল কম্পনেও সেতুকে সুরক্ষিত রাখবে।
-
স্মার্ট মনিটরিং: এতে থাকছে ‘Bridge Health Monitoring System’। সেতুর ভারবহন ক্ষমতা বা স্থায়িত্বে কোনো সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেই এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেবে।
-
ঐতিহ্যের নাম: কামরূপের বর্মন রাজবংশের কিংবদন্তি রাজা কুমার ভাস্কর বর্মার নামে এই সেতুর নামকরণ করে আসামের প্রাচীন ইতিহাসকে সম্মান জানানো হয়েছে।
আর্থ-সামাজিক বদল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন আসামের উন্নয়ন যজ্ঞে এক বড় মাইলফলক। এটি কেবল যাতায়াতের সময় কমাবে না, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।