তারেক জমানায় কি কমবে ‘ইন্ডিয়া আউট’ হাওয়া? চরমপন্থা থেকে নিরাপত্তা— এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর।

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ঠিক এই আবহেই ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবীর। যাঁর নাম ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের পরবর্তী বিদেশমন্ত্রী হিসেবে প্রবলভাবে চর্চিত হচ্ছে।

‘হাসিনা নেই, এই সত্য দিল্লিকে বুঝতে হবে’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে হুমায়ুন কবীর সাফ জানান, শেখ হাসিনার জমানার সেই বিশেষ সমীকরণ আর নেই। তাঁর কথায়, “শেখ হাসিনা এখন একজন সন্ত্রাসবাদী, যিনি ১৫০০ মানুষকে হত্যা করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ভারতকে বুঝতে হবে আজ বাংলাদেশে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারত সরকার যাতে তাদের মাটি ব্যবহার করে হাসিনাকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ না দেয়, সেটাই এখন বিএনপির বড় দাবি। দিল্লির মানসিকতায় পরিবর্তন এলে তবেই সম্পর্কের উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

চরমপন্থা ও নিরাপত্তা: পালটা তোপ ভারতের দিকেও

বাংলাদেশে ‘ভারত-বিরোধী’ কার্যকলাপ বা মৌলবাদ বৃদ্ধি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগের জবাবে কিছুটা আক্রমণাত্মক সুর শোনা গেল হুমায়ুন কবীরের গলায়। তিনি বলেন, “চরমপন্থা শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের অভ্যন্তরেও রয়েছে। সেখানে মুসলিম ও বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কট্টর মন্তব্য করা হয়, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলে।” তবে অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর বার্তা দিয়ে তিনি জানান:

  • নিরাপত্তা সহযোগিতা: দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নিবিড় সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন।

  • অস্থিতিশীলতা বন্ধ: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা বাংলাদেশের কোনো অংশকেই অস্থিতিশীল করে কারো লাভ হবে না।

  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ জায়গা এবং এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে।

আগামীর পথে ‘নিরপেক্ষতা’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখা হবে। কোনো বিশেষ দেশের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই দিল্লির সঙ্গে কথা বলতে চায় তারেক রহমানের সরকার।