অমৃত ভারত প্রকল্পে সেজে উঠল কামাখ্যাগুড়ি রেলস্টেশন, একঝলকে দেখুন ছবি

আলিপুরদুয়ার: ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা এখন আর বিরক্তিকর নয়, বরং অনেকটা শপিং মলে সময় কাটানোর মতো! ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের (Amrit Bharat Station Scheme) ছোঁয়ায় ভোল বদলে গেল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কামাখ্যাগুড়ি রেলস্টেশনের। আলিপুরদুয়ার জেলার এই স্টেশনটি এখন আধুনিক পরিকাঠামো ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের এক অনন্য নজির।

কামাখ্যাগুড়িতে কী কী পরিবর্তন এল?

দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের এই স্টেশনের আধুনিকীকরণের দাবি ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই মেগা প্রজেক্টে স্টেশনটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে:

  • বিশাল পার্কিং এরিয়া: যাত্রীদের গাড়ি বা বাইক রাখার জন্য তৈরি হয়েছে সুপরিসর পার্কিং জোন।

  • বিশাল ফুট-ওভার ব্রিজ: স্টেশনে যাতায়াত সহজ করতে তৈরি হয়েছে ১২ মিটার চওড়া আধুনিক ফুট-ওভার ব্রিজ।

  • আধুনিক অপেক্ষালয়: ট্রেন আসার আগে যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন, তার জন্য তৈরি হয়েছে এসি ও নন-এসি লাউঞ্জ।

  • ডিজিটাল ব্যবস্থা: উন্নত ডিসপ্লে বোর্ড এবং ঘোষণা ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের মুহূর্তের আপডেট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে।

বাংলার ১০১ স্টেশনে ৩৬০০ কোটির বিনিয়োগ

শুধু কামাখ্যাগুড়ি নয়, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মোট ১০১টি স্টেশনকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। পূর্ব রেল সূত্রে খবর, এই স্টেশনগুলোর উন্নয়নে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। এই তালিকায় হাওড়া, শিয়ালদহ, মালদা টাউন থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব জংশন রয়েছে।

স্পেশাল নজরে এনজেপি ও সাঁতরাগাছি

এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশন। ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এনজেপি-কে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘আধুনিক প্রবেশদ্বার’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে তৈরি হচ্ছে এয়ার কনকোর্স এবং বিশ্বমানের টার্মিনাল। অন্যদিকে, হাওড়ার চাপ কমাতে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাঁতরাগাছি স্টেশনকে একটি ‘মাল্টি-মোডাল হাব’ হিসেবে তৈরি করছে রেল।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য শুধু স্টেশনের সৌন্দর্য বাড়ানো নয়, বরং প্রতিবন্ধী-বান্ধব ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের মিশেলে এক নতুন ভারতের রেল সফর নিশ্চিত করা।