পাক ম্যাচে কোথায় হোঁচট খেতে পারে ভারত? মহারণ নিয়ে যা বলছে বিশেষজ্ঞরা?

টি-২০ বিশ্বকাপে স্বপ্নের শুরু করেছে সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ম্যাচে আমেরিকাকে ২৯ রানে হারানো এবং দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়াকে ৯৩ রানে চূর্ণ করে গ্রুপ ‘এ’-র মগডালে বসে আছে ভারত। কিন্তু রবিবারের পাকিস্তান ম্যাচের আগে একটা বড় ‘অসুখ’ কুরে কুরে খাচ্ছে নীল বাহিনীকে— আর তা হলো মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা।
নামিবিয়া ম্যাচে রান পাহাড়, তবুও… দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ভারত ২০৯ রানের পাহাড় গড়লেও, এর সিংহভাগ কৃতিত্ব টপ অর্ডার ও হার্দিক পান্ডিয়ার। ঈশান কিষান মাত্র ২৪ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই দেখা যায় ধস। শিবম দুবে (২৩), রিঙ্কু সিং (১) এবং অক্ষর প্যাটেল (০) যেভাবে দ্রুত আউট হলেন, তাতে বড় স্কোরের স্বপ্ন ধাক্কা খেয়েছিল। শেষে হার্দিকের ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস ভারতকে ২০০-র গণ্ডি পার করায়।
ইউএসএ ম্যাচেও একই চিত্র: আমেরিকা ম্যাচেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের এই কঙ্কালসার চেহারা প্রকট হয়েছিল। ওপেনাররা ব্যর্থ হওয়ার পর একা হাতে লড়াই টেনেছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (৮৪*)। কিন্তু সেদিনও মিডল অর্ডার থেকে কোনো সাহায্য মেলেনি। রিঙ্কু বা শিবমদের মতো ফিনিশাররা রান না পাওয়ায় বিশেষজ্ঞ মহলে কপালে ভাঁজ পড়েছে।
কেন চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা? সামনেই প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নামিবিয়া বা আমেরিকার বোলিংয়ের চেয়ে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ অনেক বেশি শক্তিশালী। শাহিন আফ্রিদি বা নাসিম শাহদের বিরুদ্ধে টপ অর্ডার কোনো কারণে শুরুতে হোঁচট খেলে, মিডল অর্ডারকে হাল ধরতেই হবে। শিবম দুবে এবং রিঙ্কু সিংয়ের মতো পাওয়ার হিটারদের অফ-ফর্ম ভারতের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কী করা উচিত? প্রাক্তনীদের পরামর্শ, মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত স্ট্রাইক রোটেট করা এবং ডট বলের সংখ্যা কমানো জরুরি। টপ অর্ডারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা পাকিস্তান ম্যাচে বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে।
ভারত ইতিমধ্যেই সুপার এইটে যাওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে। কিন্তু ট্রফি জিততে হলে মিডল অর্ডারের এই ‘ব্যাটিং ডিসঅর্ডার’ দ্রুত সারিয়ে তুলতে হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে কি রিঙ্কু-শিবমদের চেনা মেজাজে দেখা যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় ১৪০ কোটি ভারতবাসী।