ভারতের ‘চিকেনস নেক’-এর ওপারেই জামাতের জয়জয়কার! বাংলাদেশের ভোটে সিঁদুরে মেঘ দেখছে দিল্লি?

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে (২০২৬) বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেলেও দিল্লির সাউথ ব্লকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর অভাবনীয় উত্থান। জাতীয় স্তরে জামাত মাত্র ৬৮টি আসন পেলেও ভারত-সংলগ্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে তাদের সাফল্য ভারতীয় কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ভারতের স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এলাকায় জামাতের প্রভাবকে বড় কৌশলগত ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে উদ্বেগ?
রংপুর বিভাগ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর সংযোগকারী একমাত্র সরু পথ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর একদম বিপরীতে অবস্থিত।
রংপুর ফ্যাক্টর: এই বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে জামাত।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা এই করিডোর ঘিরে যদি ভারতবিরোধী উগ্র মতাদর্শের প্রচার বাড়ে, তবে তা ভারতের অখণ্ডতার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
খুলনা ও দক্ষিণবঙ্গের সীমান্ত জট
শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্তের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা লাগোয়া খুলনা বিভাগেও জামাত বড় সাফল্য পেয়েছে।
৩৬টি আসনের মধ্যে ২৩টিতেই জয় পেয়েছে জামাত।
এই অঞ্চলটি অতীতেও অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের জন্য কুখ্যাত ছিল। এখন সীমান্তে কট্টরপন্থীদের রাজনৈতিক আধিপত্য বাড়লে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিএসএফ-কে নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হতে পারে।
দিল্লির ঐতিহাসিক ‘ তিক্ততা’ ও বর্তমান অবস্থান
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী ভূমিকা এবং বরাবরই ভারতকে ‘হস্তক্ষেপকারী’ রাষ্ট্র হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া জামাতের প্রতি দিল্লির অনাস্থা ঐতিহাসিক। ভারতের উদ্বেগ মূলত দুটি জায়গায়:
১. সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের (বিশেষ করে হিন্দুদের) নিরাপত্তা।
২. উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহীদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত ফের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হওয়া।
ভবিষ্যৎ কী?
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ সম্পর্কের আশ্বাস দিলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় জামাতের তৃণমূল স্তরের নিয়ন্ত্রণ দিল্লির ওপর চাপ বজায় রাখবে। যদিও জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি প্রধান শক্তি, তবুও স্থানীয় প্রশাসনে জামাতের প্রভাব আঞ্চলিক কূটনীতিতে এক নতুন এবং জটিল সমীকরণ তৈরি করল।