স্পিকার উধাও, সংসদও নেই! বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শপথ পড়াবেন কে?

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের মসনদে ফিরল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপি। ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী প্রথম নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে ক্ষমতায় বসতে চলেছেন বিএনপির বর্তমান কাণ্ডারি তারেক রহমান। তবে সরকার গঠনের আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়াবেন কে? এই সাংবিধানিক জট ঘিরেই এখন ঢাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা।

কেন তৈরি হলো শপথের সংকট?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান বিদায়ী সংসদের স্পিকার। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামো কার্যত অকেজো। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে জনসমক্ষে নেই। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুও বর্তমানে কারাগারে। স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে নবনির্বাচিত ‘লিডার অফ দ্য হাউস’-এর শপথ গ্রহণ এক অভূতপূর্ব আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে।

বিকল্প পথ: শপথ পড়াবেন কে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধানের বিকল্প ধারাগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অতিক্রান্ত হলে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারেন। নির্বাচন কমিশন গত শুক্রবার রাতে নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে। সেই অনুযায়ী:

শনিবার শপথ নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে যাচ্ছে।

আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সূত্রে খবর, সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা দায়িত্ব নিতে পারেন।

ভোটের ফলাফল একনজরে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। অন্যান্য শরিক দলগুলো পেয়েছে ৯টি আসন। আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের ফলাফল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে এই ল্যান্ডস্লাইড বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।