ডিএ নিয়ে চরম সংঘাত! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য? রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে বড় নোটিশ!

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য ও সরকারি কর্মীদের লড়াই এবার এক নতুন মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বকেয়া মেটানোর কোনো তৎপরতা না দেখানোর অভিযোগে রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলা— মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠালেন আন্দোলনকারী কর্মীরা।

কেন এই চরম পদক্ষেপ?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছিল, এই অর্থ মেটানোর শেষ সময়সীমা ৩১ মার্চ, ২০২৬। বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে মেটানো হবে, তা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটিও গঠন করে দেয় আদালত।

সুপ্রিম নির্দেশের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের তরফে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না দেখায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা। শুক্রবার ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে আইনি নোটিশ ধরিয়েছেন।

চাপে নবান্ন: কী বলছেন আন্দোলনকারীরা?
মামলাকারীদের দাবি, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ শিরোধার্য। সেখানে গড়িমসি করার কোনো জায়গা নেই। বকেয়া ২৫ শতাংশ মেটানোর কোনো প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর এই ‘কনটেম্পট নোটিশ’ রাজ্যের ওপর প্রশাসনিক ও নৈতিক চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান ও ধোঁয়াশা
ডিএ ইস্যুতে শুরু থেকেই সতর্ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাজেট পেশের পর তিনি জানিয়েছিলেন, আদালতের রায়ের কপি খতিয়ে দেখা হবে এবং ৫ সদস্যের কমিটি যে পরামর্শ দেবে, সরকার সেই অনুযায়ী কাজ করবে। তবে গত মঙ্গলবার এই নিয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি বিচারাধীন, তাই আমি এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।”

রাজ্যের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি এবং আন্দোলনকারীদের ‘আদালত অবমাননার’ পালটা চালে আগামী ৩১ মার্চের আগে ডিএ ইস্যু যে আরও তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।