ভোটের আগেই বাংলায় কমিশনের ‘সুপার’ অবজার্ভার! এন কে মিশ্রর এন্ট্রি ঘিরে কাঁপছে প্রশাসন, কী তাঁর আসল মিশন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই বাংলায় কড়া নজরদারি শুরু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন (SIR) এবং আসন্ন নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি তদারকি করতে ১৯৮৮ ব্যাচের দুঁদে আইপিএস অফিসার এন কে মিশ্রকে (N K Mishra) বিশেষ পর্যবেক্ষক বা ‘স্পেশাল অবজার্ভার’ নিয়োগ করল কমিশন।

শুক্রবার যখন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী দিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে হাজির ছিলেন, ঠিক তখনই এই হাই-প্রোফাইল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন সদন।

কে এই এন কে মিশ্র? কেন তিনি কমিশনের পছন্দের?
এন কে মিশ্রর ঝুলিতে রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা। তাঁর প্রোফাইল একনজরে:

অভিজ্ঞতা: ১৯৮৮ ব্যাচের সিকিম ক্যাডারের আইপিএস।

গুরুত্বপূর্ণ পদ: সিকিমের প্রাক্তন ডিজিপি এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) স্পেশাল ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন।

নির্বাচনী ট্র্যাক রেকর্ড: ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রের মতো স্পর্শকাতর রাজ্যে পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষক ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি কমিশনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত আধিকারিক।

সংবিধানের কোন ক্ষমতায় এই নিয়োগ?
কমিশন জানিয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩সিসি ধারা অনুযায়ী তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে থেকে কাজ করবেন। অর্থাৎ, তাঁর কাজের রিপোর্ট তিনি সরাসরি দিল্লিকে দেবেন।

এন কে মিশ্রর প্রধান লক্ষ্যসমূহ:
১. SIR তদারকি: বর্তমানে ভোটার তালিকায় যে নাম বাদ যাওয়া বা তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে, তাতে যেন কোনো জালিয়াতি না হয় তা নিশ্চিত করা।
২. ভোটের প্রস্তুতি: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বুথের পরিকাঠামো— আসন্ন বিধানসভা ভোটের যাবতীয় গ্রাউন্ড রিপোর্ট তৈরি করা।
৩. প্রশাসনিক সমন্বয়: রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও কাজের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।

কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?
সচরাচর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বা দিনক্ষণ ঘোষণার পর স্পেশাল অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এবার ভোটার তালিকার কাজ চলাকালীনই এন কে মিশ্রর মতো একজন হাই-র‍্যাঙ্কড অফিসারকে পাঠানো নজিরবিহীন। এর আগে কেবল SIR-এর জন্য আইএএস অফিসারদের অবজার্ভার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইপিএস অফিসার পাঠানোয় স্পষ্ট যে— কমিশন এবার কোনো ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না।