ভোটার তালিকায় মহাপ্রলয়! ৫৮ লক্ষের পর আরও ৬.২৫ লক্ষ নাম বাদ? ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় এক অভূতপূর্ব ‘শুদ্ধিকরণ’ চালাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) শুনানি প্রক্রিয়া আজ, শনিবার শেষ হতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে নতুন করে আরও ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে।
কেন বাদ পড়ছে এত নাম?
কমিশন সূত্রে খবর, এবারের সংশোধনে নথির সত্যতা যাচাইয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। মূলত যে তিনটি কারণে নাম বাদ পড়ার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে:
শুনানিতে অনুপস্থিতি: যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ শুনানিতে হাজির হননি। ফলে তাদের নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নথির গরমিল: জমা দেওয়া তথ্যের সাথে সরকারি নথির ব্যাপক অমিল পাওয়া গিয়েছে।
নিবিড় স্ক্রুটিনি: গত ডিসেম্বর মাসেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদের মুখে। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পিছিয়ে গেল চূড়ান্ত তালিকা
আগে ঠিক ছিল আজ, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং নথিপত্র যাচাইয়ে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় কমিশন সেই দিনক্ষণ পিছিয়ে দিয়েছে।
নতুন তারিখ: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত জমা পড়া নথি স্ক্রুটিনি এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।
পরিসংখ্যান একনজরে
মোট নোটিশ জারি: প্রায় ১.৫০ কোটি (১ কোটি ২০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি ও ৩২ লক্ষ আনম্যাপড ভোটার)।
তথ্য যাচাই শেষ: ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটারের।
এখনও বাকি: প্রায় ১০ থেকে ১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য আপলোড করা।
এডিটরের নোট: কমিশনের এই ‘নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট— কোনোভাবেই কোনো জাল বা বিদেশি নাগরিকের নাম যেন তালিকায় না থাকে।