বিশেষ: শরীর বদলে যায় প্রতি ৭ বছরে, কিন্তু প্রেম কি ফুরিয়ে যায়? জানুন রহস্য

আজ ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা প্রেম দিবস। গোলাপ, চকোলেট আর উপহারের ভিড়ে আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, এই ‘ভালোবাসা’ আসলে কী? ১০ বছর আগে আপনি যাঁকে ভালোবেসেছিলেন, আজকের সেই মানুষটি কি জৈবিকভাবে এক? বিজ্ঞান ও দর্শন বলছে— উত্তরটা বেশ জটিল, কিন্তু চমকপ্রদ।

শরীরের কোষ বদলায়, ভালোবাসা কি নয়? বিজ্ঞানীরা কার্বন-১৪ ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের শরীরের অধিকাংশ কোষের বয়স মাত্র ৭ থেকে ১০ বছর। অর্থাৎ, প্রতি এক দশকে আপনার শরীর প্রায় সম্পূর্ণ নতুন হয়ে যায়। পুরনো কোষ মরে গিয়ে জন্ম নেয় নতুন কোষ। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, ১০ বছর আগে যাঁকে ভালোবেসেছিলেন, তাঁর শরীরের সেই পুরনো কোষগুলো তো আজ নেই! তবে কি ভালোবাসাও বদলে যায়?

স্থায়ী স্মৃতি ও নিউরনের ম্যাজিক: শরীরের সবটা কিন্তু বদলে যায় না। চোখের লেন্সের কোষ বা মগজের সেরিব্রাল কর্টেক্সের নিউরনগুলো জন্মের পর থেকে আমৃত্যু প্রায় একই থাকে। আমাদের চেতনা, আত্মপরিচয় এবং সবচেয়ে বড় কথা— প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো মধুর স্মৃতিগুলো এই স্থায়ী নিউরনেই সঞ্চিত থাকে। শরীর নতুন হলেও, আপনার স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব থাকে অপরিবর্তিত।

‘শিপ অফ থিসিয়াস’ ও প্রেমের দর্শন: প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লুটার্ক একটি জাহাজের উদাহরণ দিয়েছিলেন— যার প্রতিটি অংশ বদলে ফেলার পরও কি সেটি আগের জাহাজই থাকে? উত্তর হলো— হ্যাঁ, কারণ তার ‘সারাংশ’ বা সত্তা একই। আপনার সঙ্গীও প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছেন, কিন্তু ভালোবাসা টিকে থাকে সেই যৌথ স্মৃতি আর আবেগের ওপর ভিত্তি করে।

হরমোনের কারসাজি: গবেষণা বলছে, ভালোবাসা কেবল মনের খেয়াল নয়, এটি মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট রাসায়নিক খেলা।

  • অক্সিটোসিন: একে বলা হয় ‘সংলগ্নতার হরমোন’, যা সম্পর্কের বাঁধন শক্ত করে।

  • ডোপামিন: যা আমাদের মনে আনন্দের জোয়ার আনে। fMRI স্ক্যানে দেখা গেছে, প্রিয় মানুষের কথা ভাবলে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা স্মৃতি ও প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত।

উপসংহার: শরীরের কোষ বদলে যেতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার মূলে থাকা সেই স্থায়ী চেতনা আর ব্যক্তিত্ব কখনও বৃদ্ধ হয় না। তাই আজকের এই প্রেম দিবসে সেই অমর স্মৃতিগুলোকেই উদযাপন করুন। মনে রাখবেন, ভালোবাসা শুধু শরীরের নয়, বরং আত্মার গভীরে থাকা এক অমোঘ স্মৃতির নাম।