“গণতন্ত্রের কলঙ্ক!” বাংলাদেশের ভোটের ফল আসতেই গর্জে উঠলেন শেখ হাসিনা, বিস্ফোরক অভিযোগ আওয়ামী লিগের

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই ওপার বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে অগ্নুৎপাত শুরু হলো। দুই-তৃতীয়াংশ জনমত নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের পথে থাকলেও, এই নির্বাচনকে সরাসরি ‘প্রহসন’ এবং ‘প্রশাসনিক জালিয়াতির মহড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল জালিয়াতির মহড়া’: হাসিনার তীব্র আক্রমণ
নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লিগের পক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ‘কলঙ্কময় অধ্যায়’। তাঁর মতে, এটি জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা।
পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন: হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন:
অস্বাভাবিক ভোটবৃদ্ধি: কমিশনের তথ্যমতে, সকাল ১১টায় ভোট ছিল ১৪.৯৬ শতাংশ, যা দুপুর ১২টার মধ্যে হঠাৎ বেড়ে হয় ৩২.৮৮ শতাংশ। মাত্র এক ঘণ্টায় ১৭.৯২ শতাংশ ভোটবৃদ্ধি কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
৫ সেকেন্ডে ১ ভোট: হাসিনার দাবি, কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী প্রতি ৫-৬ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে, যা বাস্তবে অসম্ভব।
ইউনূস সরকার ও বিএনপি-কে নিশানা
মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে হাসিনা অভিযোগ করেন, এই সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করে একতরফা নির্বাচন করেছে।
হিংসার অভিযোগ: ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগের দিন থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই এবং আগাম ব্যালট বক্স ভরার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
গণভোট নিয়ে সন্দেহ: জাতীয় নির্বাচনের ফল দ্রুত আসলেও একই দিনে হওয়া গণভোটের ফল ৫ ঘণ্টা দেরিতে প্রকাশ করায় কারচুপির জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লিগ।
“নিষিদ্ধ ও দমন করা হয়েছে আমাদের”
বিবৃতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, অতীতে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেও আওয়ামী লিগ কখনও তা করেনি। কিন্তু এবার তাদের নির্বাচনে লড়তে দেওয়া হয়নি, বরং রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে দমন করা হয়েছে। হাসিনার সাফ কথা, এই নির্বাচন গণতন্ত্র ফেরাতে নয়, বরং দেশে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করল।
এডিটরস নোট: ওপার বাংলায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চললেও, শেখ হাসিনার এই বিস্ফোরক দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।