বৃষ্টিতে ভারত-পাক ম্যাচ ভেস্তে গেলে কাদের লাভ? জেনিন টুর্নামেন্টের সহজ হিসেব

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় লড়াই, অথচ মাঠের লড়াই শুরুর আগেই শুরু হয়ে গেছে আকাশের সাথে যুদ্ধ। ২০২৬ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে আগামীকাল মুখোমুখি হওয়ার কথা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই মেগা-ম্যাচের ভাগ্য এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রকৃতির মর্জির ওপর। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির ভ্রুকুটি রীতিমতো কাঁপিয়ে দিচ্ছে ক্রিকেট ভক্তদের।

আবহাওয়ার অশনি সংকেত: শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া বিভাগ একটি লাল সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কলম্বোর ওপর। ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ রবিবার বিকেলের পর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ। সন্ধ্যা ৭টায় যখন টস হওয়ার কথা, তখন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যেহেতু গ্রুপ পর্বের ম্যাচের জন্য কোনো রিজার্ভ ডে নেই, তাই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

ম্যাচ ভেস্তে গেলে কার লাভ? খাতা-কলমের হিসেব বলছে, ম্যাচটি যদি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়, তবে দুই দেশই লাভবান হবে।

  • ভারত ও পাকিস্তান: দুই দলই বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে (উভয়েরই ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট)। ম্যাচ বাতিল হলে উভয় দল ১ পয়েন্ট করে পাবে। ৩ ম্যাচ শেষে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান কার্যত হাত ধরাধরি করেই সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলবে।

  • নেট রান রেট: বর্তমানে রান রেটের বিচারে ভারত (+৩.০৫০) শীর্ষে এবং পাকিস্তান (+০.৯৩২) দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পয়েন্ট ভাগাভাগি হলেও এই অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না।

মহাসংকটে তিন দেশ: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকলে বড় মূল্য চোকাতে হবে আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়াকে। আমেরিকা ও নেদারল্যান্ডসের হাতে মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি। তারা সেই ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে, যা ভারত-পাকিস্তানের সংগৃহীত ৫ পয়েন্টের চেয়ে কম। ফলে মাঠের লড়াই ছাড়াই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাবে এই তিন দল।

ম্যাচ হলে কী হবে? যদি বৃষ্টি থামে এবং ম্যাচটি নিষ্পত্তি হয়, তবে জয়ী দল সরাসরি সুপার এইটে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, পরাজিত দলকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের ফলাফলের দিকে। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে শুধুমাত্র সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্যই রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে, গ্রুপ পর্বে প্রকৃতির হাতেই সব ছেড়ে দিয়েছে আইসিসি।