মহা শিবরাত্রিতে ভাগ্য বদলাবে মাত্র ৩ বার এই পাঠে! দেবাদিদেবের কৃপায় দূর হবে সব বাধা

ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি— হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র মাহেন্দ্রক্ষণ। এই দিনেই পালিত হয় মহা শিবরাত্রি। ভক্তদের বিশ্বাস, অন্ধকার আর অজ্ঞতা দূর করে জীবনের পরম সত্যের আলো জ্বালিয়ে দেন দেবাদিদেব মহাদেব।

পৌরাণিক মতে, শিবরাত্রির এই পবিত্র রাতে ভক্তিভরে মহাদেবকে স্মরণ করলে এবং ‘শিব চালিশা’ পাঠ করলে অসাধ্য সাধন হয়। জীবনের দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন, রোগ-ব্যধি এবং মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে শিব চালিশার গুরুত্ব অপরিসীম।

শিব চালিশা পাঠের সঠিক নিয়ম: এভাবে করলে মিলবে ফল
অধিকাংশ মানুষই নিয়ম না জেনে পাঠ করেন, ফলে পূর্ণ ফল লাভ হয় না। সাংবাদিক হিসেবে আমরা তুলে ধরছি শাস্ত্রীয় সঠিক বিধি:

শুদ্ধিকরণ: শিবরাত্রির দিন সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার (সম্ভব হলে সাদা) পোশাক পরুন।

আসন: পূর্ব দিকে মুখ করে একটি পরিষ্কার আসন পেতে বসুন।

উপকরণ: মহাদেবের সামনে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। সাথে রাখুন ধূপ, শ্বেত চন্দন, সাদা ফুলের মালা এবং বেলপাতা।

ভোগ: মহাদেবকে বাতাসা বা নকুলদানা নিবেদন করুন।

জল সঙ্কল্প: একটি পাত্রে বা ঘটিতে বিশুদ্ধ জল ভরে সামনে রাখুন।

পাঠের ধরণ: অন্তত ৩ বার ‘শিব চালিশা’ পাঠ করুন। পাঠ করার সময় উচ্চারণ স্পষ্ট রাখুন এবং একটু উচ্চস্বরে পড়ুন যাতে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।

শান্তি জল: পাঠ শেষ হলে পাত্রের জলটি সারা ঘরে ছিটিয়ে দিন এবং বাড়ির সকলে মিলে প্রসাদ হিসেবে সামান্য পান করুন।

॥ শ্রী শিব চালিশা ॥
দোহা
জয় গণেশ গিরিজাসুবন, মঙ্গলমূল সুজান।
কহত অযোধ্যাদাস তুমি, দেহু অভয় বরদান॥

চৌপাই
জয় গিরিজাপতি দীনদয়ালা, সদা করত সন্তন প্রতিপালা।
ভাল চন্দ্র রাজত নীকে, কানন কুণ্ডল নাগফনীকে॥
অঙ্গ গৌর শির গঙ্গ বহায়ে, মুণ্ডমাল তন ছার লাগায়ে।
বস্ত্র খাল বাঘম্বর সোহে, ছবি কো দেখি নাগ মুনি মোহে॥
… (পুরো চালিশাটি ভক্তিভরে পাঠ করুন) …

ফলশ্রুতি:
শাস্ত্রমতে, যারা ঋণে জর্জরিত বা সন্তান সুখ থেকে বঞ্চিত, তারা যদি নিয়ম মেনে এই পাঠ করেন, তবে শিবের আশীর্বাদে তাদের মনস্কামনা পূর্ণ হয়। বিশেষ করে ত্রয়োদশী এবং শিবরাত্রির তিথিতে এর প্রভাব বহু গুণ বেড়ে যায়।

বি.দ্র: ভক্তি ও বিশ্বাসই হলো মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার মূল চাবিকাঠি। নিজের অন্তরের শ্রদ্ধা দিয়ে দেবাদিদেবকে ডাকলে তিনি অবশ্যই সহায় হন।