উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মারধর করে পুকুরে নিক্ষেপ! খণ্ডঘোষে কাঠগড়ায় তৃণমূল, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক মুখে এক পরীক্ষার্থী ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের বেড়ুগ্রাম অঞ্চলের বোঁয়াইচণ্ডী এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

আক্রমণের কারণ কী? স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার ব্যবসায়ী দীপক অধিকারী বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, সম্প্রতি বিজেপির যুব মোর্চার কিছু কর্মসূচিতে তিনি সাহায্য করেছিলেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, সেই ‘অপরাধেই’ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ লকাইয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী দীপকবাবুর দোকানে চড়াও হয়। দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি দীপকবাবু এবং তাঁর ছেলেকে মারধর করে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত যুবক চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ, আক্রান্তরা খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ প্রথমে টালবাহানা করে। এমনকি অভিযোগপত্র থেকে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির নাম বাদ দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ। আহত বাবা ও ছেলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

শাসকদলের প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঠিক কী ঘটেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। যেহেতু থানায় অভিযোগ হয়েছে, তাই পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।” তবে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি।

ভোটের আবহে খণ্ডঘোষের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক পরীক্ষার্থীর ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।