ডান ফুসফুসে বাতাস ঢোকা বন্ধ! জটিল ব্রঙ্কোস্কোপিতে অসাধ্য সাধন নীলরতনের ডাক্তারদের, ভাইরাল কিশোরীর জীবনযুদ্ধের কাহিনী

ফের একবার অসাধ্য সাধন করে খবরের শিরোনামে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (NRS)। এক ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর শ্বাসনালীতে আটকে থাকা বড় আকারের কুলের বীজ বের করে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনলেন পালমোনারি মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার মান নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন ওঠে, তখন এনআরএস-এর এই সাফল্য নতুন করে মানুষের আস্থা জোগাল।
যেভাবে শুরু এই মরণযুদ্ধ: বীরভূমের বাসিন্দা ওই কিশোরী গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে অসহ্য শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্টে তাকে এনআরএস-এর আউটডোরে আনা হয়। পরিবারের দাবি ছিল, কুল খাওয়ার সময় ভুলবশত একটি বড় বীজ তার শ্বাসনালীতে ঢুকে যায়। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে হলেও বিষয়টি শুরুতে ধরা পড়েনি।
চিকিৎসকদের তৎপরতা ও জটিল অস্ত্রোপচার: এনআরএস-এ ভর্তির পর দ্রুত সিটি স্ক্যান করানো হলে দেখা যায়, কিশোরীর ডান দিকের প্রধান ব্রঙ্কাসের মুখে প্রায় ২ সেন্টিমিটার বড় একটি বীজ আটকে রয়েছে। এর ফলে তার ডান ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছানো প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অধ্যাপক ড. জয়দীপ দেব, ড. পুলককুমার জানা ও ড. সুকান্ত কোদালির নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল দ্রুত ফাইবার-অপটিক ব্রঙ্কোস্কোপি করার সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে সফলভাবে সেই বীজটি বের করে আনা হয়।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা: অধ্যাপক ড. জয়দীপ দেব জানিয়েছেন, “কুলের বীজের মতো জৈব বস্তু শ্বাসনালীতে আটকে গেলে তা ভিজে ফুলে ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রাণঘাতী করে তোলে। শিশুদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
বর্তমানে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। ঘরের মেয়ের প্রাণ ফিরে পাওয়ায় চিকিৎসকদের দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করছেন বীরভূমের ওই পরিবার।