পরাজিত হয়েও ভারতের গলার কাঁটা জামায়াত! শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ কি এখন বিপদের মুখে?

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২১১টি আসন পেয়ে জয়ী হলেও, ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে পরাজিত দল জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ৬৮টি আসন পেলেও পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে জামায়াতের অভাবনীয় উত্থান ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
১. শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ বিপদ: সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রংপুর বিভাগ নিয়ে। এই অঞ্চলটি ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের (Chicken’s Neck) ঠিক বিপরীতে অবস্থিত, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র যোগসূত্র।
-
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে জামায়াত।
-
জামায়াত ঘনিষ্ঠ উগ্রপন্থীদের দাবি— এই করিডোরটি ভারতের দুর্বলতার প্রতীক।
-
সীমান্তে কট্টরপন্থী আগ্রাসন বৃদ্ধি পেলে ভারতের এই লাইফলাইন যেকোনো সময় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
২. পশ্চিমবঙ্গের দরজায় উগ্রপন্থা? শুধু উত্তর নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা সীমান্ত সংলগ্ন খুলনা বিভাগে জামায়াত ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছে।
-
খুলনার ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৩টিতেই জিতেছে জামায়াত প্রার্থীরা।
-
এর ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং চরমপন্থী নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।
হিন্দুদের জন্য কি ‘তালিবানি’ চ্যালেঞ্জ?
রংপুর ও খুলনা বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই এলাকায় জামায়াতের দাপট সাধারণ সংখ্যালঘুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নতুন বিএনপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ওপার বাংলার হিন্দুদের ওপর।
ভারতের বিরুদ্ধে ‘লুন্ঠনকারী’ তত্ত্ব
জামায়াত প্রধান শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে উগ্রপন্থী এনসিপি নেতারা প্রকাশ্য জনসভায় ভারতকে ‘লুন্ঠনকারী’ ও ‘প্রভু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, ১৯৭১-এর ইতিহাসকে নতুনভাবে লিখতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জামায়াতের প্রভাব ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হতে পারে।