ভারত-পাক মহারণে ফের বড় ধাক্কা! এবার আর রাজনীতি নয়, মাঠের বাইরে থেকেই এল দুঃসংবাদ

২২ গজের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই। ভারত বনাম পাকিস্তান মানেই যেখানে উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী, সেখানেই ফের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। আগামী রবিবার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দেশ। তবে এবারের বাধা কোনো বয়কট বা রাজনৈতিক টানাপোড়েন নয়, বরং ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ প্রকৃতি।
কেন এই অনিশ্চয়তা? শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ক্রিকেট প্রেমীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কলম্বো ও ক্যান্ডিসহ দ্বীপরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মাস কয়েক আগেই ঠিক এমনই এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলমগ্ন হয়েছিল কলম্বো। শ্রীলঙ্কার ‘ন্যাচারাল হ্যাজার্ডস আর্লি ওয়ার্নিং সেন্টার’ ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে সূর্যকুমার যাদব বনাম সলমন আলি আঘাদের দ্বৈরথ মাঠেই ভেস্তে যাবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
নাটকীয় মোড় ও সমীকরণ: উল্লেখ্য, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ইস্যু নিয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে টালবাহানা কম হয়নি। শুরুতে বয়কটের হুমকি দিলেও আইসিসি-র চাপ ও বিশাল আর্থিক ক্ষতির কথা মাথায় রেখে ‘ইউ-টার্ন’ নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। গ্রুপ ‘এ’ থেকে দুই দলেরই সুপার এইট কার্যত নিশ্চিত। তবে রবিবারের এই লড়াই মূলত গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল এবং বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানের।
ভারতীয় শিবিরে খুশির হাওয়া: ফিরছেন কি অভিষেক? ম্যাচ নিয়ে সংশয় থাকলেও ভারতীয় ড্রেসিংরুম থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পেটের সমস্যা কাটিয়ে বাইশ গজে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা। টিম ম্যানেজমেন্টও চাইছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেরা একাদশ নামাতে। ফর্মে না থাকলেও রিঙ্কু সিংয়ের ওপর ভরসা রাখছে দল। প্রসঙ্গত, প্রথম দুই ম্যাচে আমেরিকা ও নামিবিয়াকে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে ভারত। অন্যদিকে, পাকিস্তানও হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও আমেরিকাকে।
বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে সুপার এইটের লড়াই আরও রোমাঞ্চকর মোড় নেবে। এখন দেখার, রবিবারের আকাশে সূর্য হাসে নাকি নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় ক্রিকেট ইতিহাসের বৃহত্তম লড়াই।