সরাসরি ফোনে তলব! দিল্লিতে কমিশনের কাঠগড়ায় মুখ্যসচিব, ভোটের মুখে নজিরবিহীন সংঘাত

ভোটের দামামা বাজার আগেই ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লি বনাম নবান্ন লড়াই। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ভুয়ো ভোটার তালিকায় যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই ক্ষোভের জেরেই শুক্রবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরাসরি দিল্লিতে তলব করা হল। নজিরবিহীন বিষয় হলো, কোনও আনুষ্ঠানিক চিঠি বা ইমেলের তোয়াক্কা না করে সরাসরি ফোনেই তাঁকে দিল্লিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই নির্দেশ মেনে শুক্রবার সকালেই দিল্লি পৌঁছেছেন তিনি।
সংঘাতের নেপথ্যে কী? ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ অগস্ট। বারুইপুর পূর্ব ও ময়নার ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোটার তালিকায় নাম তোলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও নবান্ন কার্যত কোনও কড়া পদক্ষেপ করেনি। উল্টে নবান্নর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘সামান্য ভুল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে লঘু দণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল, যা সপাটে খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার ও কমিশনের পাল্টা চাল: এই ইস্যুতে আগেই সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রামের সভা থেকে সরাসরি কমিশনকে তোপ দেগে তিনি বলেছিলেন, “অমিত শাহর দালালি করছো? অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছো?” তিনি সরকারি কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, তাঁদের রক্ষা করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের পর কমিশনের এই সরাসরি তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা, তার আগেই মুখ্যসচিবের এই দিল্লি যাত্রা এবং কমিশনের কঠোর অবস্থান রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। এখন দেখার, দিল্লির বৈঠকে নন্দিনী চক্রবর্তীর ব্যাখ্যায় কমিশন সন্তুষ্ট হয় কি না।