বাংলাদেশের রংপুর-খুলনায় জয়ী জামাত, কেন পশ্চিমবঙ্গের বাড়াচ্ছে চিন্তা?

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২১১টি আসন নিয়ে মসনদে ফিরলেও, ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে পরাজিত জামাত-ই-ইসলামি। অবাক করার মতো বিষয় হলো, সারাদেশে জামাত ও তাদের জোট মাত্র ৬৮টি আসন পেলেও ভারত সীমান্ত সংলগ্ন রংপুর এবং খুলনা বিভাগে তারা অভাবনীয় আধিপত্য বিস্তার করেছে।

কেন এই ফলাফল দিল্লির জন্য উদ্বেগের?

  • শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ ঝুঁকি: রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জামাত বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই অঞ্চলটি সরাসরি ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের বিপরীতে অবস্থিত। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বের ৭টি রাজ্যের সংযোগ রক্ষাকারী এই সরু করিডোরটির কাছে কট্টরপন্থীদের উপস্থিতি বড় ধরণের কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • ২৪ পরগনা ও অনুপ্রবেশের ভয়: খুলনা বিভাগ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সংলগ্ন। এখানে ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৩টিতেই জামাত জয়ী হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ এবং উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক উস্কে দিতে এই স্থানীয় প্রভাবকে ব্যবহার করতে পারে জামাত।

‘প্রভু’ নয়, ‘বন্ধু’: তারেক রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

জামাতের উগ্রবাদী অংশটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করছে যে, ভারতের এই দুর্বল করিডোর বা চিকেনস নেক-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। যদিও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে ভারতের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলছেন, কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জামাতের এই জয় তার সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা:

রংপুর ও খুলনায় বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস। এই এলাকায় জামাতের আধিপত্য সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠছে, আওয়ামী লীগের সমর্থক হিন্দু ভোটাররা এখন জামাত সমর্থকদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

এক নজরে উদ্বেগের ৩টি কারণ

এলাকা ভারতের সাথে গুরুত্ব জামাতের প্রভাব
রংপুর শিলিগুড়ি করিডোর (চিকেনস নেক) রক্ষা ৩৩টির মধ্যে ১৩টি আসনে জামাত শক্তিশালী
খুলনা পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ও ২৪ পরগনা নিরাপত্তা ৩৬টির মধ্যে ২৩টি আসনে জামাত প্রার্থীরা জয়ী
রাজশাহী গঙ্গা জলবণ্টন ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্য এই বিভাগেও জামাতের আসন বৃদ্ধি পেয়েছে

ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে গেলে তারেক রহমানকে কেবল ঢাকা সামলালে হবে না, সীমান্তবর্তী এই এলাকাগুলোতে জামাতের ‘ভারত-বিরোধী’ প্রচারকেও শক্ত হাতে দমন করতে হবে। অন্যথায় দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া কঠিন হতে পারে।