বেতনের অর্ধেকই কি চলে যাচ্ছে খাবারে? রান্নার এই জাদুকরী টিপসেই বাঁচবে টাকা ও স্বাস্থ্য!

সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন? বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত মানুষের সাধারণ অভিযোগ—মাসের বেতনের একটা বড় অংশই খরচ হয়ে যায় বাজারের ফর্দ মেটাতে। অথচ সামান্য কিছু পরিকল্পনা আর রান্নার অভ্যাসে বদল আনলে এই খরচ অনায়াসেই কমানো সম্ভব। কীভাবে নিজের বাজেট সামলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করবেন, রইল তার সহজ দাওয়াই।

১. কেনাকাটার আগে তালিকা মাস্ট: বাজারে গিয়ে যা চোখে এল তাই কিনে ফেলার অভ্যাস ছাড়ুন। কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগে রান্নাঘরের ভাণ্ডার চেক করে একটি নিখুঁত তালিকা তৈরি করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বন্ধ হবে এবং অপচয় কমবে।

২. মরসুমি সবজিতেই বাজিমাত: অসময়ের সবজি বা ফল কিনতে গেলে পকেটে টান পড়বেই। তার চেয়ে নজর দিন মরসুমি ফল ও সবজির দিকে। এগুলো যেমন সস্তায় পাওয়া যায়, তেমনই স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

৩. পাইকারি বা বাল্ক বাইয়িং: প্রতিদিন অল্প অল্প করে জিনিস না কিনে, এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় শুকনো বাজার একবারে কিনে ফেলুন। চাল, ডাল বা তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বড় প্যাকেটে কিনলে বেশ কিছুটা সাশ্রয় হয়।

৪. স্থানীয় বাজার ও মুদি দোকান: অনলাইন অ্যাপের চাকচিক্যে না ভুলে পাড়ার স্থানীয় মুদি দোকান বা বাজার থেকে কেনাকাটা করুন। সেখানে জিনিস যেমন তাজা পাওয়া যায়, তেমনই অনলাইন ডেলিভারি চার্জের হাত থেকে মুক্তি মেলে।

৫. হোম কুকিং বনাম অনলাইন অর্ডার: বাইরের খাবার বা অ্যাপে অর্ডার করা যতটা লোভনীয়, স্বাস্থ্যের জন্য ততটাই ক্ষতিকর। বাড়িতে নিজে রান্না করলে খরচে রাশ টানা যায় এবং খাবারের গুণমানও বজায় থাকে। সময় বাঁচাতে ‘ব্যাচ কুকিং’ বা একবারে বেশি করে রান্না করে রাখার পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।

সস্তা কিন্তু পুষ্টিকর খাবার (যেমন ডিম, ডাল বা সয়াবিন) এবং বেঁচে যাওয়া খাবারের সৃজনশীল পুনর্ব্যবহার আপনার মাসিক বাজেটে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আজ থেকেই এই টিপসগুলো মেনে চলুন, দেখবেন মাস শেষে মানিব্যাগ আর আপনার শরীর—দুই-ই হাসিখুশি থাকছে।