চিন্ময়ের মুক্তি থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বিলোপ, BNP-র কাছে যে ১৫ দফা দাবি করলেন তসলিমা

বাংলাদেশে নির্বাচনী ডামাডোল শেষ। ২১১টি আসন নিয়ে মসনদে বসতে চলেছে বিএনপি। কিন্তু জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিএনপির এই জয়ে তিনি মোটেও খুশি নন। তবে জামায়াতের মতো কট্টরপন্থী দল ক্ষমতায় না আসায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

তসলিমার ১৫ দফার ‘কড়া ডোজ’: নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার আগেই একগুচ্ছ দাবি ও পরামর্শ ছুড়ে দিয়েছেন লেখিকা। তাঁর ১৫টি পয়েন্টের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলি হলো:

  • সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি: হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

  • সংবিধান সংস্কার: সংবিধান থেকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তসলিমা।

  • আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।

  • শিক্ষা ও নারী অধিকার: মাদ্রাসা শিক্ষার বদলে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং নারীদের অবমাননা বন্ধ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন লেখিকা।

“ইসলামপন্থী দলগুলো গত দেড় বছর ধরে যে হিংসা ও নারীবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছে, তা ভয়াবহ। আমি চাই নতুন সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করুক।” — তসলিমা নাসরিন

ভারত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড় দাবি

তসলিমা নাসরিন মনে করেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি, তিনি দাবি তুলেছেন যে দেশে নিষিদ্ধ হওয়া সমস্ত বই, নাটক এবং চলচ্চিত্রের ওপর থেকে সেন্সরশিপ তুলে নিতে হবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপির এই বিশাল জয়ের পর তসলিমার এই ‘১৫ দফা’ পরামর্শ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার এই পরামর্শগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয়।