বাংলাদেশে বিএনপির বিপুল জয়: ৭৯ সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে জয়ী মাত্র ৪, কারা এই চার কান্ডারি?

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় হাসিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা পরেছেন মাত্র ৪ জন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ৪ জন বিজয়ী প্রার্থীই বিএনপির মনোনীত।

এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু প্রার্থীদের সংখ্যা বেশ নজরকাড়া হলেও সাফল্যের হার ছিল অত্যন্ত সীমিত। ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। বাম দলগুলো সবচেয়ে বেশি হিন্দু প্রার্থী দিলেও তাদের কেউ জয়ী হতে পারেননি। এমনকি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিও একটি আসনে হিন্দু প্রার্থী দিয়ে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। এছাড়া ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন।

কারা সেই ৪ বিজয়ী?

  • গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩): ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৮,৭৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মুহাম্মদ শাহীনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২,২৩২ ভোট।

  • নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২): বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রবীণ নেতা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪৭,৮৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

  • সাচিং প্রু (বান্দরবান): পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু ১,৪১,৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি-র আবু সাঈদ মো. সূজা উদ্দীন পান মাত্র ২৬,১৬২ ভোট।

  • দীপেন দেওয়ান (রাঙামাটি): রাঙামাটি আসনে ২,০১,৫৪৪ ভোট পেয়ে পাহাড়ের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন দীপেন দেওয়ান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১,২২২ ভোট।

উল্লেখ্য, ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি ও তার মিত্ররা ২১২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসন পেয়েছেন।